একটু ভালো থাকা, একটু ভালোভাবে বাঁচা, সন্তানদের একটু ভালো করে প্রতিপালন। এই লক্ষ্যেই দেশ ছেড়ে 'সাত সমুদ্র তেরো নদী' পারের কুয়েতে গিয়েছিলেন তামিলনাড়ুর বনিতা। কিন্তু ভাবতেও পারেননি কী হতে চলেছে তাঁর সঙ্গে! কাঁদতে কাঁদতে একটি 'এসওএস' ভিডিও পাঠিয়ে বনিতার আর্জি, ''আমাকে ওরা মেরে ফেলবে। দয়া করে আমাকে বাঁচান।''
জানা গিয়েছে, বনিতার দুই কন্যা কিশোরী। তাঁদের গ্রাসাচ্ছেদনের জন্যই তিনি কুয়েতে গিয়েছিলেন কাজ করতে। সেখানে তাঁকে পড়তে হয়েছে বড় সমস্যাতে। ভিডিওয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ''তিনমাস হল আমি এখানে এসেছি। ওরা আমার উপরে অত্যাচার করতে শুরু করেছে। কালেক্টর ম্যাডাম ও এসপি ম্যাডামের কাছে আমার আর্জি, আমাকে উদ্ধার করে আমার মাতৃভূমি ভারতে ফেরত পাঠান। আমি আর সহ্য করতে পারছি না।'' সেই সঙ্গেই তিনি দাবি করেন, ‘‘ওরা আমাকে গত দুই মাসের বেতনও দেয়নি। আমি আর এসব সহ্য করতে পারছি না। আমার ভয় হচ্ছে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমি আর পারছি না।'' গত ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ভরপেট খেতেও পাননি বনিতা।
এই পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে কুয়েতের ভারতীয় দূতাবাস। তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি পরে আরও একটি ভিডিও পোস্ট করে স্বস্তির খবর শুনিয়েছেন। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘ভারতীয় দূতাবাসকে ধন্যবাদ। এখন আমি ভালো পোশাক পরে আছি। ভালো খাবারও পেয়েছি।'' বনিতার মা-ও ভিডিও করে মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানিয়েছিলেন। এবার সকলেই খুশি। ঘরের মেয়ে কবে ঘরে ফেরে সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। প্রসঙ্গত, বনিতার ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। মধ্যপ্রাচ্যে কাজের জন্য গিয়ে এমন সমস্যায় পড়তে অনেককেই দেখা গিয়েছে এর আগে। খবর পেলে দ্রুত পদক্ষেপও করেছে ভারতীয় দূতাবাস। যেমনটা এবার বনিতার জন্যও করা হয়েছে।
