গত বছর অপারেশন সিঁদুরে তছনছ হয়েছিল পাকিস্তানে ফুলেফেঁপে ওঠা লস্কর-ই-তইবা। তবে মাত্র এক বছরের মধ্যেই নতুন করে উঠে দাঁড়িয়েছে এই সন্ত্রাসী সংগঠন। সূত্রের খবর, এতদিন লস্করের রাশ নিজের হাতে রাখার পর এবার সেই দায়িত্ব নিজের পুত্র তালহা সইদের হাতে তুলে দিচ্ছে জঙ্গি নেতা হাফিজ সইদ। অর্থাৎ রাজনীতির মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনেও এবার পরিবারবাদের বাড়বাড়ন্ত বাড়ছে।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আভ্যন্তরীণ বিবাদ ও দীর্ঘ আলোচনার পর লস্কর-ই-তইবা সংগঠনটি হাফিজ সইদের পুত্র তালহা সইদকে নতুন অপারেশনাল কমান্ডার নিয়োগ করেছে। সংগঠনে পুরনো গোষ্ঠীর চাপ থাকলেও হাফিজকে অবশ্য পুরোপুরি কোণঠাসা করা হয়নি। বরং লস্করের মার্গদর্শকের ভূমিকায় রাখা হয়েছে তাকে। এবং পুরো সংগঠনের রাশ থাকবে তালহা সইদের হাতে। দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির হাতে যে রিপোর্ট এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তত্ত্বাবধানে লস্কর নিজেদের নেটওয়ার্ককে ঢেলে সাজাতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের ভিতর তিনটি আঞ্চলিক শাখায় কাজ করছে লস্কর। যেগুলি হল, বালোচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর। সবগুলিই পরিচালিত হচ্ছে হাফিজ সইদের পুত্রের নেতৃত্বে।
পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তত্ত্বাবধানে লস্কর নিজেদের নেটওয়ার্ককে ঢেলে সাজাতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের ভিতর তিনটি আঞ্চলিক শাখায় কাজ করছে লস্কর।
জানা যাচ্ছে, বর্তমানে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সহায়ক হয়ে উঠেছে লস্কর-ই-তইবা জঙ্গি সংগঠন। বালোচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়ায় বালোচ লিবারেশন আর্মি এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর হামলায় শোচনীয় অবস্থা পাক সেনার। বহু পাক সৈন্য ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাক সেনার সাহায্যে মাঠে নেমেছে লস্কর। সরাসরি হামলা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলির ভিতরে লস্কর জঙ্গিদের ঢোকাতে তৎপর পাক সেনা।
অন্যদিকে, অধিকৃত কাশ্মীরে সরকার বিরোধী জনরোষ সামাল দিতেও লস্কর জঙ্গিদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এই জঙ্গিদের লক্ষ্য হল আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে এলাকাগুলিতে ভীতি সৃষ্টি করে বিক্ষোভ আটকানো। এছাড়াও এদের লক্ষ্য পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে একটি বড় সন্ত্রাসী হামলা চালানো এবং এর সম্পূর্ণ দোষ ভারতের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতকে বদনাম করা যায়। যদিও পাকিস্তানের অভ্যন্তরে লস্কর-ই-তইবা তিনটি উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তবে জন্ম ও কাশ্মীর এবং ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কমান্ড কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে লস্করের সমস্ত অভিযান একটি একক কমান্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে এবং সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সরাসরি তালহা সাইদ ও হাফিজ সাইদ গ্রহণ করবে।
