ইরানের (Iran) মুহুর্মুহু হামলায় রক্তাক্ত মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলি। ব্যাপক হামলা হয়েছে, সৌদি আরব, কাতার, ওমান-সহ একাধিক দেশে। এই ঘটনায় রবিবার ইরানকে সতর্ক করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। এবার মুসলিম বিশ্বে একঘরে করা হল তেহরানকে। ইরানে নিযুক্ত আমিরশাহীর কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করার পাশাপাশি তেহরানে থাকা দূতাবাসও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা ও ইজরায়েল। এই অভিযানে মৃত্যু হয় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের। এরই প্রতিশোধ নিতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে অগ্নিবর্ষণ করছে তেহরান। শনিবার এবং রবিবার সকালে দুবাই, আবুধাবি, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সৌদি আরব জুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা (Missile Attack) চালানো হয়। ইরানের এহেন আচরণে যারপরনাই ক্ষুব্ধ আরব দেশগুলি। রবিবার এই হামলার তীব্র নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন আমিরশাহীর প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ। তাঁর বার্তা ছিল, প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে এভাবে আগ্রাসী হয়ে ওঠা সম্পূর্ণ অনৈতিক। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনার যুদ্ধ সম্পূর্ণ আপনার। প্রতিবেশীদের সঙ্গে নয়। বিচ্ছিন্নতা ও উত্তেজনা বৃদ্ধির আগে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিন। নিজের চারপাশে দেখুন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করুন।”
ইরানে নিযুক্ত আমিরশাহীর কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করার পাশাপাশি তেহরানে থাকা দূতাবাসও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই বার্তা খুব বিশেষ প্রভাব ফেলেনি ইরানের উপর। বরং হামলার ঝাঁজ আরও বেড়েছে। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে হাঁটল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। তাদের বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, 'এই ধরনের হামলা অত্যন্ত বেপরোয়া ও দেশের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন।' এর পরই ইরানে থাকা দূতাবাস আমিরশাহীর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কয়েক দশক আগে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর আমিরশাহী কখনও ইরানে থাকা তাঁদের দূতাবাস বন্ধ করেনি। এই প্রথম সেই পথে হাঁটল দেশটি।
প্রসঙ্গত, শনিবার মার্কিন হামলার পর দুপুরেই দুবাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। পাম জুমেইরাহ এলাকায় বিস্ফোরণের কথা নিশ্চিত করেছে সে দেশের প্রশাসন। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ইমারত বুর্জ খলিফার কাছেও একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানা যায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শনিবারই খালি করে দেওয়া হয় বুর্জ খলিফা। রবিবারও হামলা থামেনি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, আবুধাবিতে একটি নৌসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার নতুন করে দুবাইয়ের দিকে ছোড়া দুটি রকেট রুওয়াইস অঞ্চলের শিল্প এলাকায় আছড়ে পড়ে। ইরানের হামলায় আমিরশাহীতে একাধিক মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।
