বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অনূর্ধ্ব ১৬ কিশোর-কিশোরীদের সোশাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর সেই পথে হেঁটেছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াও। এবার বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে ব্রিটেনও একই পথে হাঁটল। ব্রিটেনের কিয়ের স্টার্মার জানিয়েছেন, শিশুকল্যাণের দিকটি মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
বিবিসির সূত্রানুসারে, সরকার শিশুদের নিরাপদ বলে বিবেচিত প্ল্যাটফর্মেও লাইভস্ট্রিমিং বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি গেমিং অ্যাপে অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি একেবারে খর্ব করে দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে। শিশুদের উপরে সোশাল মিডিয়া কার্ফুও জারি করা হবে। তবে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আগামী মাসে প্রকাশিত হবে। গত তিন মাস ধরে সোশাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা এবং শিশুদের ক্ষতিকর অনলাইন ফিচারের হাত থেকে রক্ষা করতে আলোচনা করছিল ব্রিটিশ প্রশাসন। সেখানে সব দিকই খতিয়ে দেখা হয়েছে। অবশেষে পদক্ষেপ করলেন স্টার্মার।
গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এই পদক্ষেপ করেছে অস্ট্রেলিয়া। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাশ হয়েছিল ঐতিহাসিক এক বিল। এরপর ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়ে যায় আইন। কোনও প্রতিষ্ঠান এই আইন না মানলে সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা দিতে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় যা ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। তবে এই জরিমানা কেবল সংস্থাগুলির জন্যই। কোনও নাবালক কিংবা তার অভিভাবককে শাস্তির মুখে পড়তে হবে না। অস্ট্রেলিয়ার মতো ব্রিটেনও ১০টি প্ল্যাটফর্মের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলি হল- টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, রেডিট, টুইচ, এক্স, থ্রেডস, ফেসবুক এবং কিক। তবে ব্রিটেন এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিশোর-কিশোরীদের উপরে সোশাল মিডিয়ায় কার্ফুর (Social Media Ban) পাশাপাশি এআই ব্যবহারের উপরে সীমাবদ্ধতার মতো বাড়তি পদক্ষেপও করা হতে পারে।
