জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ফাইল প্রকাশ্যে আসার পর পতনের দ্বারপ্রান্তে কিয়ের স্টারমারের সরকার। এপস্টেইন যোগ সামনে আসতেই একে একে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের 'চিফ অফ স্টাফ' সহ অন্যান্য আধকারিকরা। এই পরিস্থিতিতে প্রথমবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে উঠে এলেন মুসলিম মহিলা শাবানা মাহমুদ। ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেবার পার্টির নেত্রী শাবানার রয়েছে কাশ্মীর যোগ।
জানা যাচ্ছে, পেশায় উকিল শাবানা মাহমুদ লেবার পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেত্রী। পাশাপাশি কিয়ের স্টারমারের ঘনিষ্ঠ শাবানা বক্তা হিসেবে অত্যন্ত দক্ষ। লেবার পার্টির ডানপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত শাবানার জন্ম ১৯৮০ সালে বাকিংহামে। ব্রিটেনে জন্ম হলেও শাবানার পরিবারের আদি নিবাস পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মিরপুরে। ৬০-এর দশকের শেষের দিকে তাঁর পরিবার ব্রিটেনে চলে আসেন। ২০০২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিংকন কলেজ থেকে আইন পাশ করার পর ২০০৩ সালে ব্যারিস্টার হন তিনি।
ব্রিটেনে জন্ম হলেও শাবানার পরিবারের আদি নিবাস পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মিরপুরে। ৬০-এর দশকের শেষের দিকে তাঁর পরিবার ব্রিটেনে চলে আসেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ২০১০ সালে। ওই বছর বাকিংহামের লেডিউল আসন থেকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তিনি পেয়েছিলেন প্রায় ৫৫.৭ শতাংশ ভোট। সাংসদ হওয়ার পর ২০১৩ সালে সমকামী বিয়েকে সমর্থন করে চর্চায় উঠে আসেন তিনি। ২০১৯ সালে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে তিনি বলেছিলেন, LGBTQ বিষয় সম্পর্কিত RSE পাঠ্যক্রম পড়ানোর সময় শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয় ও বয়স বিবেচনা করা উচিত স্কুলগুলির। পাশাপাশি এইসব ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের পিতামাতার সম্মতি নেওয়া উচিত স্কুলের। তাঁর এহেন মন্তব্যের ব্যাপক সমালোচনা করে লেবার পার্টি।
তবে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার থেমে থাকেনি। ২০২৩ সালে দ্য স্টেটসম্যান শাবানাকে ব্রিটেনের ২০ জন প্রভাবশালী বামপন্থী তালিকায় জায়গা দেয়। ২০২৪ সালে তিনি প্রিবি কাউন্সিলের সদস্য হন। ওই বছরেই ব্রিটেনের প্রথম মুসলিম ও তৃতীয় মহিলা লর্ড চ্যান্সেলর হন শাবানা। পরে স্টারমার তাঁকে বিদেশ সচিব ও লর্ড চ্যান্সেলরের পদে নিযুক্ত করেন। ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শাবানাকে স্বরাষ্ট্রদপ্তরের রাজ্য সচিব পদে বহাল করা হয়। এপস্টেইন নিয়ে ডামাডোলের জেরে স্টারমার সরকার যখন খাদের কিনারে ঠিক সেই সময় শাবানার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়ে উঠছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
