অপারেশন সিঁদুরে যখন বেসামাল দশা হয়েছিল পাকিস্তানের, তখন জবাব দিতে ‘গজওয়া-ই-হিন্দ’ বা ‘ধর্মযুদ্ধে’র ডাক দিয়েছিলেন পাক সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনির। ইসলামাবাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস করল খোদ জইশ কমান্ডার ইলিয়াস কাশ্মীরি।
গত বৃহস্পতিবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে জঙ্গি নেতাদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল ইলিয়াস। বক্তৃতা করতে গিয়ে অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গ তোলে সে। বলে, “যখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তখন অস্ত্রও বেরিয়ে পড়েছিল। যুদ্ধবিমান একে অপরের মুখোমুখি হল, দু’দেশের ট্যাঙ্কও পরস্পরের সামনে এসে পড়েছিল। তখন কমান্ডার ঘোষণা করেন, এটা গাজওয়াত-উল-হিন্দ, এটা বুনিয়ান আল-মারসুস।”
এরপরই ইলিয়াস জইশ-ই-মহম্মদের আদর্শ সম্পর্কে মুখ খোলে। সে বলে, “পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, জেহাদই এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য এবং অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দু।” সে আরও বলে, “আমাদের নাম, আমাদের পরিচয় এবং আমাদের নীতিবাক্য হল জেহাদ। সরকার আমাদের সমর্থন করুক বা না করুক, জেহাদই আমাদের পথ, আমাদের লক্ষ্য। কাশ্মীরকে মুক্ত করার জন্য আমরা তা চালিয়ে যাব।”
প্রসঙ্গত, গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ নিরস্ত্রকে হত্যা করে লস্করের ছায়া সংগঠন টিআরএফের চার জঙ্গি। এই হামলার জবাবে ৭ মে ভোর-রাতে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটি। এরপর ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জনবহুল এলাকা এবং সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রত্যাঘাত করে ভারত। তাতেই তছনছ হয়ে যায় পাকিস্তানের অন্তত ১১টি একধিক বায়ু সেনাঘাঁটি। ভারতীয় সেনার অভিযানে নিহত হয় ১০০ জনের বেশি জঙ্গি ও ৩৫-৪০ জন পাক সেনা। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের আর্জিতে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় নয়াদিল্লি।
