রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ আধিকারিকদের দাবি, একাধিক ড্রোন আছড়ে পড়েছে সেখানে। নানা ভিডিও ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কীভাবে আগুন ও কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গিয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে তেল শোধনাগারে এটা দ্বিতীয় হামলা। এটা ইউক্রেনের নতুন রণনীতির অংশ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভিন্ন অঞ্চলে ৫৫৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোনকে ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি ড্রোনকে রাশিয়ার রাজধানীর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় প্রতিহত করা হয়েছে। তবে সেই সঙ্গেই মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন মেনে নিয়েছেন, বেশ কয়েকটি ড্রোন মস্কোর এক তেল শোধনাগারে আঘাত করেছে। একটি শপিং সেন্টারও সামান্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
বলে রাখা ভালো, এর আগে গত মঙ্গলবারও এক ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ শোধনাগারে আছড়ে পড়েছিল। জানা যাচ্ছে, মস্কোর বিরাট জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় পেট্রল ও অন্যান্য তেলজাত পণ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে এই শোধনাগারই। এখনও দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে সেখানে। দ্রুত আগুন নেভাতে তৎপর দমকল কর্মীরা। এই ধরনের হামলা থেকেই স্পষ্ট, সেদেশের জ্বালানি সংকটকে আরও বিপন্ন করে তোলাই এখন কিয়েভের লক্ষ্য। এদিকে, রাশিয়াও হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো মস্কোর বিমান হামলার শিকার হয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের রাজধানীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, এহেন যুদ্ধের মধ্যেই জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেখানে অন্য রাষ্ট্রনেতাদের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। যুদ্ধে ইতি টানার প্রসঙ্গে কথা হললেও পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি, যদি ইউক্রেন জ্বলে, মস্কোও পুড়বে! সেই সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা বা ‘ব্যাকস্টপ’ প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে আমেরিকা।
এদিকে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারতের অবস্থান ছিল শান্তির পক্ষে। আরও একবার সেকথা মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকেই তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন জেলেনস্কির সঙ্গে। সেখানেই মোদি মনে করিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়াটা অত্যন্ত প্রয়োজন।
