বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) আয়োজকদের দাপট দেখল ফুটবল বিশ্ব। কাতারকে হাফ ডজন গোল দিল কানাডা। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসাবে নকআউটে গেল মেক্সিকো। এদিন গ্রুপ শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে নেমেছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করা দুই দলই বিশেষ ঝুঁকির পথে হাঁটেনি। হয়তো সেই কারণেই ম্যাড়মেড়ে ফুটবলে খেলার সৌন্দর্য অনেকটাই নষ্ট হল। দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্তভাবে ম্যাচে ফিরল মেক্সিকো। শেষ পর্যন্ত ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল আয়োজকরা।
ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে এদিন শুরুটা বেশ ভালো করে মেক্সিকো। প্রথমার্ধে তিনটি গোলমুখী শট নেন জাভিয়ের আগুয়েরের ছাত্ররা। যদিও কুইনোনেসের শট ছাড়া কোনও শটই তেকাঠির মধ্যে থাকেনি। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে দক্ষিণ কোরিয়াও। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার প্রচেষ্টা দেখা যায়। সেসব অবশ্য ভোঁতা মেক্সিকোর ডিফেন্স লাইনে এসে। ডেডলক ভাঙতে কোরিয়া তৎক্ষণাৎ পরিকল্পনায় বদল আনে।
৩০ মিনিটের পর মেক্সিকো ডিফেন্সে ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে খেলা তৈরি করার চেষ্টা করে নিজেদের অর্ধ থেকে। এই সময় বেশ কিছু ব্যাক পাসও দেখা যায়। কোরিয়ার কৌশল ছিল, নিজেদের অর্ধে বল রেখে মেক্সিকোর ডিফেন্ডারদের সামনে টেনে আনা। এতে রক্ষণভাগে ফাঁকা জায়গা তৈরি হলে লং পাসে দ্রুত আক্রমণের সুযোগ মিলবে। তাতে ফল মেলেনি। পরাস্ত করা যায়নি মেক্সিকোর ডিফেন্সকে। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ৫ মিনিটেই লুইস রোমোর গোলে এগিয়ে যায় মেক্সিকো। গোলরক্ষকের ভুলের মাশুল দিতে হল দক্ষিণ কোরিয়াকে। বক্সে ভেসে আসা বল লাফিয়ে গ্রিপ করেও মাটিতে পড়ার সময় বল বেরিয়ে যায় কিম সেউং-গিউর দস্তানা থেকে। সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন অরক্ষিত রোমো। বল জালে জড়িয়ে দিতে কোনও ভুল করেননি। এরপর শত প্রচেষ্টাতেও সমতায় ফিরতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। এভাবেই টানা দুই ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলে আয়োজকরা।
অন্য ম্যাচে গত বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে বিরাট ব্যবধানের হারাল এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক কানাডা। ন'জনের কাতারকে হাফ ডজন গোল দিল 'লেস রুজেস'রা। হ্যাটট্রিক করলেন জোনাথন ডেভিড। জয়ে অবদান রাখলেন কাইল লারিন এবং নাথান সালিবা। স্কোর লাইন ৬-০ হল মহম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে। বসনিয়া হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে বড় জয় পেল সুইজারল্যান্ডও। ম্যাচের ফলাফল ৪-১। জোড়া গোল করে নায়ক জোহান মানজাম্বি। আরও দু'টি গোল রুবেন ভার্সাস, গ্রানাইট জাকার। বসনিয়ার হয়ে একমাত্র গোল এরমিন মাহমিচের।
