চার বছর পেরিয়ে গিয়েছে। বহু চেষ্টার পরও এখনও থামেনি রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির (Russia-Ukraine Ceasefire) লক্ষ্যে প্রস্তাব পেশ হল রাষ্ট্রসংঘে। ভোটাভুটিতে ১০৭টি দেশ যুদ্ধবিরতির পক্ষে সমর্থন দিলেও, ভোটাভুটিতে অংশ নিল না ভারত। গতবারের মতো এবারও নিজেদের অবস্থানে অনড় নয়াদিল্লি।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় পেশ হয়েছিল রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব। যেখানে বলা হয়েছিল রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ তাৎক্ষণিকভাবে নিঃশর্তে পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে প্রস্তাবের সমর্থনে ভোট দেয় ১০৭টি দেশ। বিরুদ্ধে ভোট দেয় ১২টি দেশ। ৫১টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। এই তালিকায় রয়েছে ভারত-সহ ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত বেশকিছু দেশ। ভোটাভুটি থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখে চিন, আমেরিকাও। তবে ইজরায়েল এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে প্রস্তাবের সমর্থনে ভোট দেয় ১০৭টি দেশ। বিরুদ্ধে ভোট দেয় ১২টি দেশ। ৫১টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
উল্লেখ্য, প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কখনও কোনও পক্ষেরই নিন্দা করেনি ভারত। শুরু থেকেই ভারতের নীতি ছিল, দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুক। যুদ্ধের মাঝে একাধিকবার দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে এই ইস্যুতে আলোচনা করেছে দেশ। রাষ্ট্রসংঘেও এই ইস্যুতে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেছে দিল্লি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ভোটাভুটিতে ভারতের বিরত থাকার নেপথ্যে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ভোটাভুটিতে ভোট দেওয়ার অর্থ হল যে কোনও একটি দেশের পক্ষ নেওয়া। যা ভারতের নীতি বিরুদ্ধে। যার জেরেই এই পদক্ষেপ।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলিকে পাশে পেয়েছে ইউক্রেন। মঙ্গলবারের ভোটাভুটিতেও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলি ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রস্তাবে ১০৭ দেশের সমর্থন পাওয়ার পর সোশাল মিডিয়ায় দেশগুলিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি লেখেন, 'ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো ১০৭টি দেশের প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।'
