ইরান যুদ্ধের আঁচ এবার পড়ল ভারতের উপর! সোমবার চাবাহার বন্দরে হামলা চালিয়েছে মার্কিন ফাইটার জেট, এমনটাই সূত্রের খবর। বন্দর সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ইরানের সেনাছাউনি ছিল, সেখানেই হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে মধ্য এশিয়ার যোগাযোগ স্থাপনের প্রধান উপায় এই বন্দর। কৌশলগতভাবে চাবাহার ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানেই এবার হামলা চালাল আমেরিকা।
কৌশলগত দিক থেকে চাবাহার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে আর পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার না করেই আফগানিস্তান, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য-সম্পর্ক জোরদার করতেই ইরানের চাবাহারে সমুদ্রবন্দর গড়ে তুলেছিল ভারত। তবে ২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে চাবাহারের জন্য বরাদ্দ একেবারে শূন্য করে দেওয়া হয়। তখন প্রশ্ন উঠেছিল, তাহলে কি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছে ভারত?
সেই চাবাহারেই এবার হামলা চালাল আমেরিকা। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, চাবাহারের মুক্ত বাণিজ্য এলাকা সংলগ্ন পাহাড়ে ইরানের সামরিক ঘাঁটি ছিল। সেই ঘাঁটির উপর চক্কর কাটছে মার্কিন যুদ্ধবিমান, সোমবার এমন বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে নেটদুনিয়ায়। ওই সামরিক ঘাঁটিতেই হামলা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। তবে আমেরিকা বা ইরান কেউই এই হামলা নিয়ে সরকারিভাবে মুখ খোলেনি। অসমর্থিত সূত্রে খবর, চাবাহারে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে।
অতীতে চোখ রাখলে দেখা যাবে ইরানের মাটিতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করে আসছে কেন্দ্র। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল নয়াদিল্লি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট প্রাথমিক ভাবে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাড়িয়ে ৪০০ কোটি করা হয়। যদিও চলতি বছরে সেই ছবিটা পালটে যায়। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পরে ইরানের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগ আবারও বেড়েছে। ভারতমুখী জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করার অনুমতি দিয়েছে ইরান। তারপরেই ইরানের বন্দরে হামলা করল আমেরিকা।
