ভারতের উপর ফের নতুন করে শুল্ক চাপাল আমেরিকা। জানা গিয়েছে, শুক্রবার থেকেই নতুন শুল্কহার কার্যকর হবে। পাকিস্তান, চিন, বাংলাদেশ-সহ মোট ৬০টি দেশের উপর নতুন করে কর চাপিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও প্রাথমিকভাবে ভারতের উপর ১২.৫ শতাংশ কর বসানোর কথা ছিল। কিন্তু নয়াদিল্লির প্রচেষ্টায় সেই শুল্কের হার শেষ পর্যন্ত কিছুটা কমানো গিয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা মেনে নতুন শুল্কবাণ ছোড়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানান প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির। জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে পণ্য তৈরি রুখতে যেসব দেশ যথাযথ আইন প্রণয়ন করতে পারেনি, তাদের উপরেই বসানো হচ্ছে এই নতুন শুল্ক। সপ্তাহদুয়েক আগেই এই প্রস্তাব এনেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তারপরই নয়াদিল্লির তরফে বার্তা দেওয়া হয়, একতরফা ভাবে এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য। আমেরিকাকে বলা হয়েছে, শুল্ক ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসন যেন ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসে। সেই আলোচনায় খানিকটা ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। ১২.৫ নয়, এবার থেকে ভারতীয় পণ্যের উপর ১০ শতাংশ কর চাপবে।
বলপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা পদক্ষেপ না করার অভিযোগে ৬০টি দেশের উপর নতুন করে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। এই তালিকায় ভারতের পাশাপাশি নাম রয়েছে চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সুইৎজারল্যান্ডের মতো দেশগুলির। এই সকল দেশের উপর ১২.৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর।পাশাপাশি ব্রিটেন, কানাডা, মেক্সিকো, তাইওয়ানের উপর একই অভিযোগে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৭টি দেশের উপর বসছে ১০ শতাংশ শুল্ক, যার মধ্যে রয়েছে ভারতও।
অন্যদিকে, ভারতীয় পণ্যের উপর আলাদা করে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর চিন্তাভাবনাও চলছে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে। সম্প্রতি নতুন এক আইন পাশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে আমেরিকা। এই আইনের মর্মার্থ, যেসমস্ত দেশ রাশিয়া থেকে এখনও শক্তিসম্পদ আমদানি করছে তাদের উপর বিপুল অঙ্কের শুল্ক চাপানো। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রুশ তেলের বড় ক্রেতা। ফলে নতুন আইন পাশ হলে ভারতের মাথাব্যথা বাড়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
