নয়া অভিবাসন নীতিতে আদালতে জোর ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছরের সেপ্টেম্বরে একধাক্কায় H1B ভিসার (H1B Visa) দাম ১ লক্ষ ডলার করে দেন ট্রাম্প। যা ভারতীয় অঙ্কে দাঁড়ায় ৯৫ লক্ষ টাকারও বেশি! বোস্টনের জেলা আদালত সেই ১ লক্ষ ডলারের ফি বাতিল করে দিল সোমবার। জানিয়ে দিল, এই ধরনের ফি আসলে কর। যা লাগু করতে গেলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি প্রয়োজন। ট্রাম্প তা নেননি। আইনি এক্তিয়ার ছাড়াই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ফলে এই ফি বাতিল করা হল বলে আদালত জানিয়ে দিয়েছে ৪২ পাতার রায়ে।
উল্লেখ্য, আমেরিকায় গিয়ে কাজ করার দিক দিয়ে বিচার করলে এই বিশেষ শ্রেণির ভিসাটি ভারতীয়দের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এইচ- ওয়ানবি ভিসা-র নিয়ম মেনেই বহু বছর ধরে আমেরিকার নামী সংস্থাগুলি বহু বছর ধরে বিদেশি নাগরিক তথা দক্ষ শ্রমিক ও প্রযুক্তিবিদদের নিজেদের দেশে নিয়ে এসে নানা প্রোজেক্টের কাজ করেছে। কিন্তু সেই পেশাদারি ভিসার খরচ এভাবে অনেকখানি বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই মার্কিন সংস্থাগুলির পাশাপাশি আমেরিকায় কাজ করতে ইচ্ছুক ভারতীয়দের কপালে ভাঁজ পড়েছিল। এই রায়ে তাঁরা সকলেই স্বস্তি পেলেন, এমনটা বলাই যায়।
আদালতের দাবি, এই ধরনের ফি আসলে কর। যা লাগু করতে গেলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি প্রয়োজন। ট্রাম্প তা নেননি। আইনি এক্তিয়ার ছাড়াই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক দাবি করেছিলেন, মার্কিন স্নাতকদের অগ্রাধিকার দিতেই এই পরিকল্পনা। কিন্তু মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছিল, এই ধরনের ফি নেওয়াটা 'বেআইনি'। এতেই আশায় বুক বাঁধেন অনেকে। অবশেষে তা বাতিল হয়ে যাওয়ায় আদালতে যে আরেকবার ট্রাম্পের মুখ পুড়ল তা বলাই যায়। কিন্তু তিনি মার্কিন কংগ্রেসের তোয়াক্কা না করেই এই ফি লাগু করতে গেলেন কেন? এই বিষয়ে তাঁর প্রশাসনের অদ্ভুত যুক্তি, আমেরিকার অভিবাসন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নিজের বিশেষ ক্ষমতাবলেই বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারেন। আর সেই দিকে তাকিয়েই তাঁর এহেন সিদ্ধান্ত। যদিও এমন যুক্তি ধোপে টিকল না আদালতে। তবে উচ্চ আদালতে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
