সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার তেল বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করবে আমেরিকাই (US-Venezuela Oil Control)। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনই ঠিক করবে, ভেনেজুয়েলার তেল কাকে বিক্রি করা হবে। শুধু তা-ই নয়, তেল বিক্রি করে যে মুনাফা হবে, তা-ও আপাতত আমেরিকার কোষাগারেই যাবে। তবে মুনাফার অঙ্ক ভেনেজুয়েলারই নামে থাকবে। কিন্তু তাতে আপাতত নিয়ন্ত্রণ থাকবে আমেরিকারই। কোনও লুকোছাপা নেই, প্রকাশ্যেই এমন বিবৃতি দিয়ে দিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে বন্দি করার পর ট্রাম্পই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের নজর ভেনেজুয়েলার তেলের উপর। ওয়াশিংটন চায় না, চিন-রাশিয়াকে তেল বিক্রি করুক ভেনেজুয়েলা। ট্রাম্প প্রশাসনের শর্ত, ভেনেজুয়েলাকে শুধু আমেরিকার সঙ্গে তেলের ব্যবসা করতে হবে। আমেরিকার জ্বালানি দপ্তরের সচিব ক্রিস রাইট বলেন, "ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলকে বাজারে নিয়ে গিয়ে বেচতে চাই আমরা। ওদের ভান্ডারে এখন যে তেল মজুত রয়েছে, প্রথমে তা বিক্রি করা হবে। তার পর আরও তেল উত্তোলন করে তা বিক্রি করবে আমেরিকা।"
আমেরিকার সঙ্গে টানাপড়েনের আবহে বেশ কিছু মাস ধরেই ভেনেজুয়েলার চারপাশ ঘিরে রেখেছিল মার্কিন ফৌজ। এই অবরোধের জেরে তেল রপ্তানি করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগও তুলেছিল মাদুরোর প্রশাসন। রপ্তানি করতে না পারার ফলে ভেনেজুয়েলার তেলের ভান্ডারও টইটম্বুর হয়ে রয়েছে। ভান্ডার পরিপূর্ণ হয়ে থাকায় নতুন তেলও উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি কয়েক মাস ধরে। এ সবের ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতেও পড়েছে কারণ, তেলের টাকাতেই সে দেশের অর্থনীতি চলে। আমেরিকা ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলায় মজুত তেল বাজারে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট।
ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ ক্যারোলিন জানান, তেল বিক্রির টাকা আমেরিকার কোষাগারে যাবে আপাতত। এতে আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলা দু'দেশের মানুষেরই উন্নতি হবে। তবে ক্রিসের দাবি, "আমেরিকা মোটেই ভেনেজুয়েলার তেল বা তেল বিক্রির টাকা চুরি করছে না। আমরা চাই আবার আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনেজুয়েলার তেলের বাজার তৈরি হোক। তেলের টাকা ভেনেজুয়েলার নামেই থাকবে। পরে সেই টাকা দিয়ে ভেনেজুয়েলার মানুষের উন্নতি করা হবে।"
