রুশ তেলের গ্রাহকদের শিক্ষা দিতে মার্কিন সেনেটে পাশ হল নয়া বিল। যার জেরে এখন থেকে কোনও দেশ রাশিয়ার তেল কিনলে তার উপর চাপবে ১০০ শতাংশ শুল্ক (US Tariff)। বলার অপেক্ষা রাখে না আমেরিকার এই পদক্ষেপের জেরে বিপাকে পড়তে চলেছে ভারত, চিন-সহ ৫টি দেশ।
গত বছর এই বিলের প্রস্তাব করেছিলেন ভারত বিরোধী সদ্য প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। কড়া সুরে তিনি জানিয়েছিলেন আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যারা রাশিয়া থেকে তেল কিনছে তাদের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই বিল কার্যকর হয়নি। তবে গ্রাহামের মৃত্যুর পর এই বিল নিয়ে তৎপর হয় হোয়াইট হাউস। বিলটি সংশোধন করে শুল্ক কমিয়ে আনা হয় ১০০ শতাংশে। সেইমতো মঙ্গলবার সেনেটে পাশ হয় সংশোধিত বিলটি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির আমেরিকা সফরের মাঝেই পাশ হল বিলটি। আমেরিকার লক্ষ্য এর মাধ্যমে রাশিয়ার উপর আর্থিক চাপ বাড়িয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন প্রতিরোধ করা।
রাশিয়ার তেল কিনলে তার উপর চাপবে ১০০ শতাংশ শুল্ক। বলার অপেক্ষা রাখে না আমেরিকার এই পদক্ষেপের জেরে বিপাকে পড়তে চলেছে ভারত, চিন-সহ ৫টি দেশ।
এদিকে রিপোর্ট বলছে, এই বিলের জেরে ভারতের উপর ব্যাপক চাপ আসতে চলেছে। কারণ, রুশ তেলের গ্রাহক হিসেবে চিনের পর দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে ভারত। ফলে বলার অপেক্ষা রাখে এই বিল ভারতের জন্য বড়সড় বিপদের বার্তা। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার সেনেটে বিলটি পেশ হলে এর পক্ষে ৮৬টি ভোট পড়ে এবং বিপক্ষে পড়ে মাত্র ১২টি ভোট। বিলের মূল উদ্দেশ্য হল ভারত, চিন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজানের মতো দেশগুলির উপর চাপ বাড়ানো যাতে তারা রুশ তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে।
আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞা বিলটি এমন সময়ে এসেছে যখন পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে রুশ জ্বালানির ওপর ভারতের নির্ভরতা বেড়েছে। যুদ্ধের জেরে হরমুজে বন্ধ হয়েছে নৌচলাচল। এই হরমুজের পথেই ভারতের আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ আসত। তবে তেল ক্রয়ে শুল্ক চাপলেও ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ রাশিয়ার জ্বালানি গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। তাদের জন্য অবশ্য ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
