সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কে বন্ধু, আর কে শত্রু সেটাও ঠিক করে দেবে আমেরিকা! ভেনেজুয়েলা (US-Venezuela) অধিকারের পর সেখানকার বৈদেশিক সম্পর্কের যাবতীয় সমীকরণ এখন থেকে ঠিক করবে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার সেই ফরমানই জারি করা হল আমেরিকার তরফে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, ৪ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবে না তারা। যেগুলি হল, চিন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবা। অর্থাৎ আমেরিকা শত্রু এখন থেকে ভেনেজুয়েলারও শত্রু।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেলে শুধুমাত্র আমেরিকার অধিকার থাকবে। সেখানকার তেল বিক্রি করতে হবে ওয়াশিংটনকে। অতীতে যাদের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার মিত্রতা এবং তৈল বাণিজ্যের সম্পর্ক ছিল, সেই সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। আমেরিকার বেছে দেওয়া সেই ৪ দেশের তালিকায় রয়েছে, চিন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবিসি-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলাকে অধিক পরিমাণ তেল উৎপাদনের অনুমতি তখনই আমেরিকা দেবে যখন তারা এই দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করবে। তবে এবিসি-র এহেন রিপোর্ট সামনে আসার পরও হোয়াইট হাউসের তরফে কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভেনেজুয়েলা। শুধু তাই নয়, ভেনেজুয়েলার উৎপাদন করা তেলের ৭০ শতাংশ বিক্রি করা হত চিনকে। পাশাপাশি এই চার দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সমঝোতা ছিল ভেনেজুয়েলার। চিন ও রাশিয়ার বিপুল বিনিয়োগও রয়েছে এই দেশে। এই অবস্থায় প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার অর্থ ভেনেজুয়েলার বিদেশনীতির উলটপুরান। যা ভেনেজুয়েলার জন্য সমূহ ক্ষতির বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডার ভেনেজুয়েলা। সেখানে মজুত রয়েছে ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুরু থেকেই এই তেলের ভাণ্ডারে নজর ছিল আমেরিকার। তবে সে পথে প্রধান বাধা ছিলেন নিকোলাস মাদুরো। মাদক পাচারের ধুয়ো তুলে তাঁকে সরাতেই ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালায় আমেরিকা। উদ্দেশ্য সফল হওয়ার পর এখন আমেরিকার লক্ষ্য সেখানে ‘পুতুল সরকার’ বসিয়ে ভেনেজুয়েলার খনিজ সম্পদ লুট। ইতিমধ্যেই ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার আমেরিকাকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উচ্চমানের অনুমোদিত তেল সরবরাহ করবে। এই তেল বিক্রি করা হবে বাজার মূল্যে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই তেল বিক্রির অর্থ থাকবে আমার নিয়ন্ত্রণে। এই অর্থ ব্যবহার করা হবে ভেনেজুয়েলা ও আমেরিকার জনগণের উন্নতির লক্ষ্যে।’
