হামলা চালাতে পারে হাউথি বিদ্রোহীরা সেই ভয়ে সহজ রাস্তা ছেড়ে গোটা আফ্রিকার চক্কর কাটল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ডব্লু বুশ। বাড়তি দেড় গুণ রাস্তা পেরিয়ে বিশাল এই মার্কিন জাহজ এগোচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে হাউথি বিদ্রোহীদের ভয়ে মহাশক্তিধর আমেরিকার ঘুরপথে পাড়ি দেওয়ার ঘটনায় রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আসার জন্য আমেরিকার নৌজাহাজের সহজতম পথ হল জিব্রাল্টার, ভূমধ্যসাগর হয়ে সুয়েচ ক্যানেল পেরিয়ে লোহিত সাগর। মার্কিন সেনা বরাবর এই পথে যাতায়াত করলেও এবার দেখা গেল ভিন্ন ছবি। জিব্রাল্টার থেকে গোটা আফ্রিকা চক্কর কেটে সাউথ আফ্রিকা ও মাদাগাস্কারের পাশ থেকে ভারত মহাসাগর হয়ে আরব সাগরে প্রবেশ করবে জাহাজটি। এই রণতরীর সঙ্গে রয়েছে তিনটি ডেস্ট্রয়ার ও ৬০০ নাবিক। মার্কিন সেনার তরফে জানানো হয়েছে এই নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা দিয়েছে। কিন্তু কেন এতটা পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে জাহাজটিকে?
আমেরিকা চায় না বাব-আল-মান্দাব প্রণালীতে তাদের উপর কোনও হামলা হোক। গত কয়েক বছরে এই জলপথের ত্রাস হয়ে উঠেছে হাউথিরা।
পেন্টাগনের তরফে এই বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য না করা হলেও, জানা যাচ্ছে হাউথি বিদ্রোহীদের ভয়েই এই পদক্ষেপ। আমেরিকা চায় না বাব-আল-মান্দাব প্রণালীতে তাদের উপর কোনও হামলা হোক। গত কয়েক বছরে এই জলপথের 'ত্রাস' হয়ে উঠেছে হাউথিরা। প্রথমে গাজা ও পরে ইরানের সমর্থনে এই সমুদ্র পথ থেকে যাওয়া জাহাজগুলিতে বেলাগাম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহী শিবির। ২০২৪, ২০২৫ সালে এই পথে আমেরিকার একাধিক পণ্যবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয়েছিল হাউথিদের দ্বারা। সাম্প্রতি সময়ে ফের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। এই অবস্থায় আমেরিকা চায় না যুদ্ধের ময়দানে পৌঁছনোর আগে তাদের উপর কোনও হামলা হোক।
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি জারি থাকলেও হরমুজকে কেন্দ্র করে ফের রণহুঙ্কার শুরু করেছে আমেরিকা ও ইরান। নতুন করে ইরানে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে বুশের যাত্রা তারই প্রস্তুতি বলে মনে করা হচ্ছে। মার্চের শেষে মার্কিন বন্দর ছেড়ে রওনা দেয় পরমাণু শক্তিধর জাহাজটি। সম্প্রতি এটিকে দেখা গিয়েছে নামিবিয়ার কাছে। এই জাহাজে ৭০ থেকে ৯০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রে গত ফেব্রুয়ারি থেকে নিযুক্ত বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনকে সঙ্গ দেবে এটি। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে আমেরিকার সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড।
