হরমুজের পর এবার আরও প্রণালী বন্ধ হবে মার্কিন হামলার জেরে! এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল হাউথিরা। প্রায় দু'মাস ধরে হরমুজ প্রণালী বন্ধের জেরে গোটা বিশ্বের কার্যত নাভিশ্বাস উঠেছে। এবার বাব আল মান্ডেব প্রণালী বন্ধ হয়ে যাবে বলে সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল ইরানের মদতপুষ্ট হাউথিরা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট আরও বাড়বে। সমস্যায় পড়বে ভারত-সহ একাধিক দেশ।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একযোগে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। সেই হামলার পালটা দিতে দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছিল তেহরান। ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও হামলা করছিল ইজরায়েল। সম্প্রতি লেবাননে ১০ দিনের জন্য় সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। তারপরেই হুঙ্কার দিয়েছেন হাউথি আধিকারিক হুসেন আল-এজি। সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বাধা দেয় তাহলে বাব আল মান্ডেব প্রণালী (Bab al-Mandeb Strait) বন্ধ করে দেওয়া হবে। কেউ সেখানে চলাচল করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীর মতোই বাব এল-মান্ডেবও অসীম গুরুত্বপূর্ণ একটা সমুদ্রপথ। লোহিতসাগর, ভারত মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর, আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করা এই প্রণালীই এশিয়া-ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ-পথ। লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত এই প্রণালীটির মধ্য দিয়েই তেল সরবরাহের একটি বিকল্প পথ চালু করেছিল সৌদি আরব। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ৩০ শতাংশ এখান দিয়েই যায়। সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যে সামুদ্রিক বাণিজ্যের যোগসূত্র, সেখানেও একটা বড় দায়িত্ব পালন করে বাব এল-মান্ডেব।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালেই হরমুজ ফের বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ইরান হরমুজ খুলে দেওয়া সত্ত্বেও আমেরিকা ওই জলপথে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত ইরানগামী সমস্ত জাহাজের অবাধ চলাচল আমেরিকা নিশ্চিত করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ বন্ধই থাকবে। এহেন পরিস্থিতিতে আমেরিকা অবশ্যই চাপে। সেই চাপ আরও বাড়িয়ে বাব আল মান্ডেব বন্ধের হুঁশিয়ারি দিল হাউথিরা, সেটাও আমেরিকা-ইরান শান্তি বৈঠকের ঠিক আগে।
