জোড়া ভূমিকম্পে তছনছ ভেনেজুয়েলা। ভয়ংকর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। আহতের সংখ্যা প্রায় ৭০০। গোটা ভেনেজুয়েলাজুড়ে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে পরপর দু’টি বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কারকাস-সহ ভেনেজুয়েলার একাধিক এলাকা। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, জোড়া এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরন শহরের পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার গভীরে। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। ঠিক তার প্রায় ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে আরও একটি শাক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। এটির উৎস্থলও ওই একই জায়গায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। দ্বিতীয় শক্তিশালী ওই ভমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৫। ভয়ংকর এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৩২জন।তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, 'ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বহু বাড়িঘর। এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে আমি ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের প্রতি, এবং বিশেষ করে যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন সেই পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানাই।' তিনি আরও লেখেন, 'কঠিন এই সময়ে দেশটির পাশে রয়েছে ভারত। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক।'
ভূমিকম্পের মুহূর্তের এবং তারপরের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে (যদিও সেগুলির সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। সেগুলিতে দেখা যাচ্ছে, রাজধানী কারাকাসে বহু ভবন পেন্ডুলামের মতো দুলছে। আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসছেন মানুষজন। কোথাও কোথাও ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে বাড়িঘর। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ধ্বংসস্তূপের জেরে অবরুদ্ধ একাধিক রাস্তা। জোড়া ভূমিকম্পের পরই কারাকাসের বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ভেঙে পড়েছে বহু মোবাইল ফোনের টাওয়ারও। ফলে ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে জনগণকে শান্ত এবং ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ।
