ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হুমকি তো বটেই, কুকথার ফুলঝুরি ছুটেছে ট্রাম্পের মুখে। দুই দেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটলেও হুমকি থামেনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের এই নীতির মধ্যে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ছায়া দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানকে চাপে ফেলতে ঐতিহাসিক সেই ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ কাজে লাগিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হয়েছে ঠিকই তবে এক সপ্তাহ পিছনে ফিরলে দেখা যাবে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে রবিবার ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ঘৃণ্য ভাষায় ইরানকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি হুমকি দেন তেহরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার। ইরান সেই হুমকিতে বিশেষ সাড়া না দিলেও ট্রাম্প থামেননি। জারি থাকে তাঁর শাসানি। এই হুমকি হুঁশিয়ারির মাঝেই সম্পন্ন হয় যুদ্ধবিরতি। শত্রুকে পাগলের মতো ভয় দেখানোর এই নীতিকেই আন্তর্জাতিক পরিভাষায় বলা হয় 'ম্যাড ম্যান থিওরি'।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এই তত্ত্বের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছিলেন, শত্রুকে লাগাতার ভয় দেখাতে হবে। প্রয়োজনে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়ে নিজেকে একজন 'উন্মাদ' হিসেবে তুলে ধরতে হবে।
তবে যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকার এই নীতি নতুন নয়। বিশ্বের ইতিহাসে এই তত্ত্বের কথা প্রথম সামনে এসেছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এই তত্ত্বের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছিলেন, শত্রুকে লাগাতার ভয় দেখাতে হবে। প্রয়োজনে পরমাণু হামলার হুমকি দিতে হবে। বিশ্বের সামনে নিজেকে একজন 'উন্মাদ' হিসেবে তুলে ধরতে হবে। যাতে শত্রু মনে করে এই ব্যক্তি যা খুশি করে বসতে পারে। এভাবে শত্রুর বুকে সফলভাবে ভয় ধরিয়ে দিতে পারলেই কাবু হবে শত্রু।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার ও আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ঠিক এই নীতিই নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুমকির রশিতে এতটুকুও ঢিল দেননি তিনি। ইরানের 'সভ্যতা ধ্বংস' থেকে তাঁকে 'প্রস্তর যুগে' ফেরত পাঠানোর হুঁশিয়ারিও দেন। জল্পনা শুরু ট্রাম্প যেভাবে হুমকি দিয়ে চলেছে তাতে ইরানে পরমাণু হামলার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়। এরপরই আসে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার ঘোষণা।
লন্ডন স্কুল অব ইনিমিক্সের অধ্যাপক পিটার ট্রুবোয়িটজ বলেন, 'এই ধরনের উন্মাদ আচরণকে নিজের কৌশলগত ও রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত করেছেন ট্রাম্প।' তবে সবসময় যে এই পদ্ধতি কাজ করবে বলে মনে করেন না অধ্যাপক গিলেসপি। তিনি বলেন, ‘ইরানের মতো বেপরোয়া প্রশাসন এই ধরনের হুমকিতে ভয় পায় না, উলটে আরও সাহসী হয়ে ওঠে।' লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজের অধ্যাপক জুলি নরম্যান বলেন, ‘বারবার এই অস্ত্র প্রয়োগ করলে তার ধার কমে যেতে বাধ্য।’
