পশ্চিমবঙ্গে আচমকাই আতঙ্ক ছড়িয়েছিল নিপা ভাইরাস। আক্রান্ত হন দুই নার্স-সহ কয়েকজন। তবে এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়ে দিল, এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। ভারতে এই ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই। বাংলার নাম আলাদাভাবে উল্লেখ না করলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভারতে চলাফেরার ক্ষেত্রে কোনও বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই।
নিপা ভাইরাস ছড়ায় মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে। তাই মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে নিপা সংক্রমণের সম্ভাবনা খুবই কম, এমনটাই জানিয়েছে হু। শুক্রবার সংস্থার তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, 'নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লেও সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ভারতের। যেভাবে আমজনতার জন্য স্বাস্থ্য নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, জনস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য একযোগে কাজ করেছে, তাতে প্রমাণিত হয়েছে যে নিপা ভাইরাস নিয়ে ভারতের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এখনও পর্যন্ত ভারতে মানুষের মাধ্যমে নিপা সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রমাণও মেলেনি।'
হু'র তরফে আরও জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে নিপা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ১৯৬ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের দেহে ভাইরাস মেলেনি। তাই পশ্চিমবঙ্গে নিপা সংক্রমণের হার একেবারেই আশঙ্কাজনক নয়। তবে সীমান্ত এলাকায় বাদুড়ের উপস্থিতির কারণে কিছুটা সতর্ক থাকা দরকার। কিন্তু অন্যত্র এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা খুবই কম। প্রসঙ্গত, নিপা আতঙ্কে হংকং, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, নেপালের মতো দেশগুলি কোভিডের মতো কড়াকড়ির পথে হাঁটছে। তাদের আশ্বস্ত করতেই বিশেষ বিবৃতি হু'র।
উল্লেখ্য, উত্তর ২৪ পরগনার দুই নার্সের দেহে নিপা ভাইরাস মিলেছিল। তবে তাঁরা ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন। তবে, কীভাবে ওই দুই নার্স আক্রান্ত হয়েছে তার উৎস এখন অজানা। উৎস জানতে ইতিমধ্যেই পুণে থেকে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল রাজ্যে বাদুড় ধরে পরীক্ষা করা শুরু করেছে। তারপরে মধ্যমগ্রাম, বারাসত, বসিরহাট এলাকা থেকে কিছু বাদুড়ের পরীক্ষা হয়েছে। কলকাতায় একমাত্র আলিপুর চিড়িয়াখানায় রয়েছে বাদুড়ের আখড়া। নিপা আতঙ্ক দূর করতে এবার চিড়িয়াখানার বাদুড়দের রক্ত ও সোয়াবের নমুনা সংগ্রহ করে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে।
