নেপালের জেন-জি আন্দোলনের প্রধান মুখ ছিলেন তিনিই। সেই বলেন্দ্র শাহর বিরুদ্ধে এবার রাজপথে জেন জি! কার্যতই উলটপুরাণ। বলেন্দ্রর ইস্তফার দাবিতে গত ৩ দিনে প্রকাশ্য রাস্তায় গায়ে পেট্রল ঢেলে গায়ে আগুন দিয়েছেন ৩ যুবক।
কিন্তু কেন হঠাৎই বিক্ষোভ ( Gen Z Protest) দানা বাঁধল বলেন্দ্রর বিরুদ্ধে? বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই ভূমিহীন দখলদারদের উচ্ছেদের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ। কাঠমান্ডুর সিংহদরবার সচিবালয়ের বাইরে মাইতিঘর মণ্ডলায় ‘জয়েন্ট ন্যাশনাল স্কোয়াটার্স ফ্রন্ট’-এর সদস্যরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন অংশগ্রহণকারীরা দরিদ্রদের দুর্ব্যবহার বন্ধ, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান, বেআইনি গ্রেপ্তারি বন্ধ এবং অননুমোদিত বসতিবাসীদের জন্য উপযুক্ত আবাসনের মতো একাধিক দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন তাঁরা। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে তাতে উদ্বেগ বাড়ছে সরকারের। এই অবস্থায় যুব সমাজের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন্দ্র সরকারকে নিশানায় নিয়েছে বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস। রাষ্ট্রের ব্যর্থতার জেরেই এই আত্মহত্যা বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, গত শুক্রবার রাতে কাঠমান্ডুর কীর্তিপুরে অবস্থিত সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আছড়ে পড়ে বন্যা। সেখানে প্রায় ১৫০ জন অননুমোদিত বাসিন্দা (স্কোয়াটার) অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরদিন পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে ‘জেনারেশন জেড’-এর কর্মীরা সেখানে পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে। এ সময় এক কর্মী মুখে আঘাত পান। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর নেপালে জেন-জি বিদ্রোহ ও প্রাক্তন কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতনের অন্যতম কারিগর ছিলেন বলেন্দ্র শাহ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর গান সাড়া ফেলে দেয় যুবসমাজের মধ্যে। সোশাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা, বেকারত্ব, দুর্নীতি ও বেহাল অর্থনীতির বিরুদ্ধে জনরোষে ছারখার হয় ওলির সরকার। সরকারকে উৎখাত করার পর ৫ মার্চ ফের নির্বাচন হয় নেপালে। এই নির্বাচনে ওলিকে পরাজিত করে জয়ী হন বলেন্দ্র শাহ। মাত্র ৩৫ বছরে দেশের প্রধানমন্ত্রীও হন। তবে এক বছর পার হওয়ার আগেই এবার জনরোষের মুখে খোদ বলেন্দ্র।
