যুদ্ধের আঁচে পুড়েই চলেছে পশ্চিম এশিয়া। এই পরিস্থিতিতেই সৌদি আরবের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি করেছে আমেরিকা। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামিদিনে এর ফলে নতুন অশান্তির সূচনা হবে কিনা তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তবে পাশাপাশি উঠছে আরও একটা প্রশ্ন। তেলের অফুরন্ত ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও কেন পরমাণু শক্তির অধিকারী হতে মরিয়া আরব দেশটি?
বলে রাখা ভালো, সাম্প্রতিক চুক্তির ফলে সৌদি আরবের অসামরিক পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি উন্নয়নে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সৌদি আরব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পারমাণবিক প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাতে পারবে। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগও পাবে।
সৌদির অর্থনীতির মূল ভিত্তিই হল তেল। ২০২২ সালে দেশটির মোট জিডিপির ৪০ শতাংশই ছিল অপরিশোধিত তেল নির্ভর। তবে ‘ভিশন ২০৩০’-এর পরিকল্পনার আওতায় দেশটি তেলের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে বলেই দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের।
যদিও সৌদির তরফে জানানো হয়েছে, অসামরিক উদ্দেশ্যেই এই পরমাণু কর্মসূচি পরিচালিত হবে। কিন্তু কয়েকদিন আগে যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন কী বলেছিলেন তাও কারও বিস্মরণে থাকার কথা নয়। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিবেশী ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তবে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে। কাজেই আপাত ভাবে অসামরিক উদ্দেশ্যের কথা বললেও নেপথ্যে যে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছেই তা একপ্রকার নিশ্চিত।
মনে রাখতে হবে, সৌদির অর্থনীতির মূল ভিত্তিই হল তেল। ২০২২ সালে দেশটির মোট জিডিপির ৪০ শতাংশই ছিল অপরিশোধিত তেল নির্ভর। তবে ‘ভিশন ২০৩০’-এর পরিকল্পনার আওতায় দেশটি তেলের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে বলেই দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের। কেননা প্রচুর তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারী হলেও সৌদি আরব প্রায় প্রতি বছরই আয়ের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। গত ১০ বছরের মধ্যে ৯ বারই দেশটিতে বাজেট ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৌদি আরব বিপুল পরিমাণ নিজস্ব তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে। যদি পরমাণু শক্তির মাধ্যমে তারা রপ্তানির জন্য আরও তেল সংরক্ষণ করতে পারে, সেক্ষেত্রে তা অন্য দেশে বিক্রি করলে আরও বেশি আয় করা সম্ভব হবে। আর সেই কারণেই পরমাণু শক্তি পেতে চাইছে সৌদি। অর্থাৎ কেবলই ইরানের 'মোকাবিলা' নয়, সেই সঙ্গে অর্থনীতির শক্তি বাড়াতে পরমাণু শক্তির প্রতি এমন 'আকর্ষণ' সৌদির।
