shono
Advertisement
Bardhaman

ক্লাসরুমের বাইরে অঙ্কের ক্লাস! বাজারে গিয়ে হাতে-কলমে হিসাব শিখল খুদে পড়ুয়ারা

ক্লাসঘরের মধ্যে ব্ল্যাক বোর্ডে আর খাতায় কেবল অঙ্ককষা নয়! অঙ্ককে ভালোবেসে হিসেব শিখতে হাতে-কলমে পড়ুয়াদের পাঠ দেওয়ার চেষ্টা করলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বাজারে নিয়ে যাওয়া হল খুদে পড়ুয়াদের। সেখানেই জিনিসপত্রের দরদাম করা, সবজির দাম নির্ধারণ থেকে, জিনিস কিনে টাকা দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া!
Published By: Suhrid DasPosted: 09:03 PM Jul 24, 2026Updated: 09:04 PM Jul 24, 2026

ক্লাসঘরের মধ্যে ব্ল্যাক বোর্ডে আর খাতায় কেবল অঙ্ককষা নয়! অঙ্ককে ভালোবেসে হিসেব শিখতে হাতে-কলমে পড়ুয়াদের পাঠ দেওয়ার চেষ্টা করলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বাজারে নিয়ে যাওয়া হল খুদে পড়ুয়াদের। সেখানেই জিনিসপত্রের দরদাম করা, সবজির দাম নির্ধারণ থেকে, জিনিস কিনে টাকা দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া! সবটাই হাতেকলমে করল চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়ারা। বাজারে গিয়ে অঙ্কের হিসাব হল। ক্লাসরুমের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু শেখার ইচ্ছায় মেতে উঠল কচিকাঁচারা। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের ইন্দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

Advertisement

পুঁথিগত ভাবে অঙ্ক শিখলেই হবে না। প্র্যাক্টিক্যাল বা বাস্তবিক জ্ঞান অর্জনও জরুরি। তাই বাজারে নিয়ে গিয়ে হাতেকলমে প্রাথমিকের পড়ুয়াদের মুখে মুখে হিসাবশেখালেন শিক্ষকরা। একইসঙ্গে বাজারে গিমে বেছে বেছে ভালো সবজি কেনাও শিখতে পেরেছে পড়ুয়ারা। বাস্তব জীবনের সঙ্গে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের যোগসূত্র গড়ে তুলতে শুক্রবার এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের ইন্দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাজার করে খুশি শ্রেয়ষী, সৈকতরা। 

সবজির দরদাম-কেনাকাটা করছে খুদে পড়ুয়ারা। নিজস্ব চিত্র

ক্লাসে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ শিখেছে খাতায় কলমে। কিন্তু বাস্তব জীবনে বা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কীভাবে বাজার করতে হয়, বাজারে আনাজের দামের হিসেব কীভাবে শিখতে হয় তার পাঠ নিয়েছে চতুর্থ শ্রেণির ১২ জন পড়ুয়া। এদিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু ঘোষাল ও শিক্ষক সৌমিক মণ্ডল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে স্থানীয় মীরেপোথা বাজারে যান। দোকানে ঘুরে ঘুরে সবজি কেনা হয়। অঙ্কের বিষয়ে স্কুলের খাতায় গ্রাম, কেজির হিসেব কষেছে সবজি, ডিমের দামের। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল না। এদিন বাজার করার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় পড়ুয়াদের হাতে। পড়ুয়ারা দোকানে গিয়ে কেজি অনুযায়ী সবজির দাম দেনে প্রয়োজন মতো সবজি কিনেছে। কত দাম হচ্ছে, তাও মুখে মুখে হিসেব কষেছে। দোকানদারকে বেশি টাকা দিলে কত ফেরত পাওয়া যাবে, তারও হিসেব কষেছে পড়ুয়ারা। কোনও ত্রুটি হলে ধরিয়ে দিয়েছেন পড়ুয়াদের পাশে থাকা শিক্ষকরা।

সবজির দোকানে হিসেবের ক্লাস পড়ুয়াদের। নিজস্ব চিত্র

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু ঘোষাল বলেন, "শুধু বই পড়ে বা খাতায় লিখে অঙ্ক শেখা নয়। বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, তা ছাত্রছাত্রীদের হাতে-কলমে শেখানোই মূল উদ্দেশ্য। পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে এসে ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে শেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলেই শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা।" পড়ুয়ারা খুশি মনে বাজার করেছে। হিসেবও করেছে নিখুঁতভাবে। দু'একজন সামান্য হিসেবের গরমিল করে ফেললে শিক্ষকরা তা সংশোধন করিয়ে দেন।

প্রধান শিক্ষক জানান, এদিন চতুর্থ শ্রেণির ১২ জন পড়ুয়াকে আনা হয়েছিল। আগামী দিনে অন্যান্য ক্লাসে পড়ুয়াদের একইভাবে এই পাঠ দেওয়া হবে। এদিন বাজার করতে গিয়েছিল শ্রেয়সী দাস, সৈকত মালিক, সেখ তানবিররা। তাদের কথায়, "স্কুলে বইখাতায় অঙ্ক শেখান স্যাররা। এদিন বাজারে হাতে-কলমে শিখলাম। খুবই উপকার হয়েছে। হিসেবও ঠিকঠাক হয়েছে।" এদিনের কেনা সবজি স্কুলের মিড ডে মিল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement