২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালী। এদিকে শান্তিচুক্তির ৬০ দিনের মেয়াদও ফুরিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বড় ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বললেন, “হরমুজ (Strait of Hormuz) এখন মুক্ত। প্রণালী থেকে সমস্ত মাইন অপসারণ করা হয়েছে।”
সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, ‘বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কোনও আলোচনা চলছে না। এমনকী ওদের সঙ্গে কোনও আলোচনার পরিকল্পনাও নেই। নৌ-অবরোধ পূর্ণমাত্রায় বলবৎ রয়েছে। হরমুজ উন্মুক্ত, সচল। প্রণালীতে বিছানো সমস্ত মাইনও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।কিছু মাইন বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন ঘোষণা পর প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি আমেরিকার চালে 'পরাস্ত' হয়েছে ইরান? হরমুজে আধিপত্য হারিয়েছে খামেনেইয়ের দেশ? যদিও উত্তরগুলি এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ৮০ শতাংশেরও বেশি জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘ অনুমোদিত ওমানি রুট (ওমানের উপকূল ঘেঁষা নৌপথ) ব্যবহার করছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এ অঞ্চলে ইরানের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পেয়েছে। তেহরান অবশ্য এই রুটের ব্যাপারে তীব্র বিরোধিতা জানিয়ে আসছে অনেকদিন ধরেই।
অন্যদিকে, হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে ইরান। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা যতক্ষণ না পর্যন্ত তেহরানের শর্তগুলি পূরণ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, "ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ছিল ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা। কিন্তু আমরা হার মানবো না। উলটে আমেরিকা এখন নতুন করে আলোচনার জন্য অনুনয়-বিনয় করছে।" তিনি আরও বলেন, "ওয়াশিংটনের এহেন আচরণের অর্থ হল আমরা যুদ্ধে জয়ী হয়েছি। কূটনৈতিক স্তরেও জয়লাভ করেছি।"
