shono
Advertisement
Eiffel Tower

মহিলা হটাও! আইফেল টাওয়ার সফরের আগে 'শর্ত' হিন্দু সংস্থার, প্রতিবাদে বন্ধ বিখ্যাত স্থাপত্য

আইফেল টাওয়ার দর্শন করেছেন বোচাসন্ন্যাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থার (BAPS) ১০০ জন সদস্য। কিন্তু সেই সফর উপলক্ষে আইফেল টাওয়ারের সমস্ত মহিলা কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব থেকে!
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 08:53 AM Sep 08, 2026Updated: 01:45 PM Sep 08, 2026

আইফেল টাওয়ার দর্শন করেছেন বোচাসন্ন্যাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থার (BAPS) ১০০ জন সদস্য। কিন্তু সেই সফর উপলক্ষে আইফেল টাওয়ারের (Eiffel Tower) সমস্ত মহিলা কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব থেকে! এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ব্যাপক প্রতিবাদে সরব হয়েছেন আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা। বন্ধ হয়ে গিয়েছে পৃথিবীবিখ্যাত স্থাপত্যের দরজা।

Advertisement

জানা গিয়েছে, একটি মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে প্যারিসে যায় ১০০ জনের দলটি। গত শনিবার আইফেল টাওয়ার ঘুরে দেখেন তাঁরা। তবে আইফেল টাওয়ার সফরের আগে তাঁদের সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়, সফরের সময়ে কোনও মহিলা কর্মীদের ওই চত্বরে রাখা যাবে না। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদে সরব হন আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা। তাঁদের বিবৃতিতে বলা হয়, 'স্রেফ মহিলা হওয়ার কারণে কর্মীদের সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একেবারে অদৃশ্য হয়ে যেতে বলা হয়েছে মহিলাদের। কাউকে নিজের এলাকা থেকে অন্যত্র বহাল করা হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে মহিলাদের বদলে পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকী বলা হয়েছে ওই দল যখন থাকবে তখন মহিলা কর্মীরা যেন আশেপাশেও না যান।'

বিস্ফোরক অভিযোগ মেনে নিয়েছে আইফেল টাওয়ার পরিচালন সংস্থা SETE-ও। তাদের মতে, এই শর্তাবলি সংস্থার আদর্শের পরিপন্থী এবং নারী-পুরুষের সমানাধিকারের বিরোধী। তবুও BAPS-এর 'শর্ত' মেনে নিয়েছিল সংস্থাটি। গোটা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে সোমবার। তারপরই বন্ধ করে দেওয়া হয় আইফেল টাওয়ার। কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে কর্তৃপক্ষ। কর্মীরা দাবি তোলেন, আগামী দিনে কোনও মহিলার সঙ্গে যেন এমন আচরণ না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। পরে অবশ্য কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চায় কর্মীদের কাছে। তার জেরে সোমবার দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে আইফেল টাওয়ার।

'ফতোয়া' জারি করার পর অবশ্য ক্ষমা চেয়েছে বোচাসন্ন্যাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা। গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগরি। সরব হয়েছেন ফ্রান্সের একাধিক রাজনৈতিক নেতৃত্বও। মন্ত্রী অরোরে বার্জ বলেছেন, ফ্রান্সে মহিলাদের মুছে ফেলা হয় না। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মারিন লে পেনও বলেছেন, মহিলাদের 'সরিয়ে দেওয়া' কখনও মেনে নেবে না ফ্রান্স। সবমিলিয়ে প্যারিসে বাড়ছে বিতর্ক।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement