shono
Advertisement
Jagannath Deb

জগন্নাথের অঙ্গে নিহিত নানা গ্রহের শক্তি, মহাপ্রভুর শরণে কাটবে কোন কোন দোষ?

শ্রীক্ষেত্র ধাম কেবল মুক্তির সোপান নয়, আধ্যাত্মিক সাধকদের মতে এটি এক মহাজাগতিক শক্তির আধার। শাস্ত্রমতে, জগতের নাথ জগন্নাথদেবের শ্রীবিগ্রহের মধ্যেই নিহিত রয়েছে নবগ্রহের স্থিতি। তাই সঠিক বিধি মেনে দর্শন করলে কুণ্ডলীতে থাকা গ্রহের ফেরে নাজেহাল হওয়া জাতক-জাতিকারাও অনায়াসে মুক্তি পেতে পারেন। জীবনের জটিল গ্রহদোষ কাটিয়ে সৌভাগ্য ফেরাতে কোন অংশে দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন? জেনে নিন শাস্ত্রীয় নিদান।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 02:30 PM Apr 09, 2026Updated: 03:06 PM Apr 09, 2026

শ্রীক্ষেত্র ধাম কেবল মুক্তির সোপান নয়, আধ্যাত্মিক সাধকদের মতে এটি এক মহাজাগতিক শক্তির আধার। শাস্ত্রমতে, জগতের নাথ জগন্নাথদেবের (Jagannath Deb) শ্রীবিগ্রহের মধ্যেই নিহিত রয়েছে নবগ্রহের স্থিতি। তাই সঠিক বিধি মেনে দর্শন করলে কুণ্ডলীতে থাকা গ্রহের ফেরে (Planetary Effects)নাজেহাল হওয়া জাতক-জাতিকারাও অনায়াসে মুক্তি পেতে পারেন। জীবনের জটিল গ্রহদোষ কাটিয়ে সৌভাগ্য ফেরাতে কোন অংশে দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন? জেনে নিন শাস্ত্রীয় নিদান।

Advertisement

ছবি: সংগৃহীত

নয়ন দর্শনে আত্মবিশ্বাস
জ্যোতিষশাস্ত্রে (Astrology) সূর্য ও চন্দ্রকে বলা হয় 'চক্ষু'। জন্মছকে এই দুই রাজকীয় গ্রহ নীচস্থ বা অশুভ হলে মানুষের মনের জোর তলানিতে ঠেকে। দেখা দেয় প্রবল আত্মবিশ্বাসের অভাব। সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন জাতক। এই দশা কাটাতে জগন্নাথদেবের ডাগর চোখের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করার বিধান দেয় পুরাণ। মনে করা হয়, তাঁর বিশাল চক্ষুর মধ্যেই ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত তেজ ও অমৃতধারা লুকিয়ে আছে। একাগ্র চিত্তে নয়ন দর্শন করলে রবি ও চন্দ্রের দোষ কেটে মনে স্থিরতা আসে।

বাহুমূলে কর্মতৎপরতা
মঙ্গল ও বুধের অবস্থান যখন জন্মছকে প্রতিকূল হয়, তখন জীবনে দেখা দেয় বহুমুখী সংকট। মঙ্গলের কুপ্রভাবে জাতক উগ্র হয়ে ওঠেন, বৃদ্ধি পায় দুর্ঘটনা বা রক্তপাতের যোগ। অন্যদিকে, বুধের দশা ব্যবসায়িক মন্দা ও বুদ্ধিভ্রমের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাপ্রভুর অসমাপ্ত হস্তের মধ্যেই এই দুই গ্রহের শক্তির ভারসাম্য রয়েছে। তাঁর বাহু দর্শনে যেমন রাগ প্রশমিত হয়, তেমনই বুধের কৃপায় পেশাজীবনে ফিরে আসে হারানো সাফল্য।

ছবি: সংগৃহীত

চরণে শনি-রাহুর মুক্তি
শনি, রাহু ও কেতু— এই তিন ছায়াগ্ৰহ বা পাপগ্রহের কুনজর পড়লে জীবন কার্যত নরকসম হয়ে ওঠে। আকস্মিক বিপদ, দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা আইনি জটিলতায় জেরবার হতে হয়। এই তিন দুঁদে গ্রহের প্রভাব কাটানোর দাওয়াই লুকিয়ে আছে জগন্নাথদেবের শ্রীচরণে। কথিত আছে, অশুভ গ্রহের প্রকোপ থেকে বাঁচতে জগন্নাথের রাঙা পায়ে সঁপে দিতে হয় নিজেকে। তাঁর পাদপদ্ম দর্শনে কালসর্প দোষ বা শনির সাড়ে সাতির প্রভাবও অনেকাংশে হ্রাস পায়।

নাভিকুণ্ডে ঐশ্বর্য ও দাম্পত্য
বৃহস্পতি ও শুক্রের অশুভ অবস্থানে ভাগ্যের চাকা থমকে যায়। বৃহস্পতি প্রতিকূল হলে সব কাজে বাধা আসে, আর শুক্রের দোষে নষ্ট হয় দাম্পত্য সুখ ও সমৃদ্ধি। শাস্ত্র বলছে, জগন্নাথের নাভিকুণ্ডলী দর্শনে এই দুই শুভ গ্রহের শুভত্ব ফিরে আসে। সংসারের অভাব মেটাতে ও আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে এই দর্শন অত্যন্ত ফলদায়ী।

ছবি: সংগৃহীত

পরিশেষে বলা যায়, কলিযুগে জগন্নাথ দর্শনই পরম মহৌষধ। তবে কেবল বাহ্যিক দৃষ্টি নয়, মনের গহন কোণ থেকে ভক্তি নিয়ে তাকালে তবেই গ্রহের ফের কাটিয়ে শ্রীক্ষেত্রের করুণা লাভ সম্ভব।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement