বর্ষার মেঘমল্লার রাগে জুলাইয়ের প্রবেশ। এই মরশুমে যাঁরা পৃথিবীর আলো দেখেন, তাঁদের চারিত্রিক গঠন বেশ স্বতন্ত্র। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রাচীন গ্রন্থ 'ভৃগু সংহিতা' বলছে, জুলাই মাসে জন্ম নেওয়া মানুষদের জীবনে সূর্য ও চন্দ্র— দুইয়েরই প্রভাব থাকে অপরিসীম। ফলে, এদের চরিত্রে যেমন লুকিয়ে থাকে সিংহের মতো তেজ, তেমনই মনের অন্দরে বইতে থাকে চাঁদের মতো স্নিগ্ধ, কোমল এক ফল্গুধারা। কর্কট আর সিংহ রাশির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন দেখা যায় এদের মধ্যে।
ছবি: সংগৃহীত
কেমন হন জুলাইয়ের জাতক?
১) বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে এরা ভীষণ গম্ভীর আর শান্ত। আদতে তা-ই। অকারণ কোলাহল বা সস্তা আড্ডায় সময় নষ্ট করা এদের না-পসন্দ। যেকোনও আসরে এরা সাধারণত নীরব শ্রোতা। নিজের মনের গোপন কুঠুরির চাবি এরা সহজে কারও হাতে তুলে দেন না। সহজে কাউকে বিশ্বাস করা এদের স্বভাবে নেই। তবে মেঘ কাটলেই যেমন রোদ্দুর হাসে, তেমনই চেনা পরিচিতদের বৃত্তে এদের রসবোধ এক অন্য মাত্রা পায়। তখন এদের সামান্য রসিকতাও পুরো মাহফিলের মেজাজ বদলে দিতে পারে নিমেষেই।
২) জুলাইয়ের জাতকদের সবচেয়ে বড় গুণ হল এদের স্বচ্ছতা। এদের মনটা ঠিক যেন কাচের আয়না। ভেতরে যা, বাইরেও তা-ই। কুটিলতা বা পিঠপিঠ সমালোচনা করা এদের ধাতে নেই। সম্পর্কের বাঁধনকে এরা অত্যন্ত পবিত্র মনে করেন। বন্ধু বিপদে পড়লে নিজের ভালো-মন্দ না ভেবেই এরা ঝাঁপিয়ে পড়েন। সততা আর আনুগত্য এদের মজ্জাগত।
৩) আর্থিক বিষয়ে এরা অত্যন্ত হিসেবি। দূরদর্শিতা এদের মস্ত বড় অস্ত্র। আয়ের চেয়ে ব্যয়ের দিকে কড়া নজর থাকে। তবে এদের কৃপণ ভাবলে ভুল হবে। বিলাসিতা আর রাজকীয় জীবনযাপনের প্রতি এদের একটা সহজাত টান থাকে বইকি! নিজের শখ পূরণ বা প্রয়োজনের সময়ে এরা মুক্তহস্তে খরচ করতে পারেন। আসলে জীবনটাকে এরা একটা সুনির্দিষ্ট বাজেটের ফ্রেমে বাঁধতে ভালোবাসেন।
ছবি: সংগৃহীত
৪) সবকিছুর ঊর্ধ্বে এদের কাছে পরিবার। কাজের ব্যস্ততা যতই থাক, দিনের শেষে এরা ঘরের টানেই ফেরেন। আপনজনদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারেন। তবে স্থান-কাল-পাত্রভেদে মানুষের স্বভাব বদলায়, এটাই দস্তুর। তবুও জুলাইয়ের মানুষদের সঙ্গে এই লক্ষণগুলো মিলিয়ে নিলে চমকে উঠতেই হয়।
