কৃষ্ণকুমার দাস, ঢাকা: বিএনপি-জামাতের ‘আগুন সন্ত্রাসে’র আবহেই আজ বাংলাদেশে শুরু হয়েছে দ্বাদশ নির্বাচন প্রক্রিয়া। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটগ্রহণ। এদিন সকালেই রাজধানী ঢাকার সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামি লিগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ভোট দিয়েই তাঁর হুঙ্কার, ‘বিএনপির হরতালের তালে জনগণ নাচে না।’
রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ ঢাকার সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী চিত্রনায়ক ফিরদৌস আহমেদ। সিটি কলেজ কেন্দ্রটি ঢাকা-১০ আসনের মধ্যে। এদিন হাসিনার সঙ্গে তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, বোন শেখ রেহানা ও ছেলে রাদওয়ান মুজিবও ছিলেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে হাসিনা বলেন, “জনগণের ওপর আমার বিশ্বাস আছে। আওয়ামি লিগের প্রতীক নৌকার জয় হবে। বিএনপি একটা সন্ত্রাসী দল। তাদের হরতালের তালে বাংলাদেশের জনগণ নাচে না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যে ভোট সুষ্ঠুভাবে করতে পারছি, সে জন্য জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
[আরও পড়ুন: বাংলাদেশের নির্বাচনে ভাগ্য নির্ধারণ ভারতেরও! কেন হাসিনাকেই ফের ক্ষমতায় চায় দিল্লি?]
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে বিএনপি-জামাতের ‘আগুন সন্ত্রাসে’ জ্বলছে বাংলাদেশ। নির্বাচনে কারচুপি ও হিংসার অভিযোগে বিদ্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ সরকার। বিরোধীদের ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে লাগাতার। হাসিনা সরকারের উপর আর আস্থা নেই জানিয়ে এই সরকার ভেঙে তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন করার দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু তা না হওয়ায় এইবারের ভোট বয়কট করেছে খালেদা জিয়ার দল। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ‘ডামি নির্বাচন’বলেও তোপ দেগেছে বিএনপি। আজকের ভোট রুখে দেওয়ার ডাক দিয়েছে তারা। কিন্তু বিরোধী দলের কোনও হুমকিরই পরোয়ানা করেছে না আওয়ামি লিগ।
বলে রাখা ভালো, ২৯৯টি (প্রার্থীর মৃত্যুতে নওগাঁ-২ বাদে) সংসদীয় কেন্দ্রে আজ প্রার্থীদের ভাগ্যনির্ণয় হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। এবারে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৩ লক্ষ, ৩৩ হাজার ১৫৭। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫ লক্ষ ৯২ হাজার ১৬৯। আর মহিলা ভোটার ৫ কোটি ৮৭ লক্ষ ৪০ হাজার ১৪০। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৮৪৮। নির্বাচন কমিশনে মোট রেজিস্টার্ড দলের সংখ্যা ৪৪। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ২৮টি রাজনৈতিক দল। বিএনপি-সহ বাকি দল এবং আরও কিছু বিরোধী দল নির্বাচন বয়কট করেছে। দেশজুড়ে হরতাল করছে তারা।