আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একসঙ্গে জুলাই সনদ নিয়েও গণভোট হবে সেখানে। তা পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশে গিয়েছেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক। তাঁদের মধ্যে চিন এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা থাকলেও নেই ভারতের কেউ। তা নিয়েই জল্পনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি ৩৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিকও গিয়েছেন বাংলাদেশে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস উইং বুধবার জানিয়েছে, যে ৩৯৪ জন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি। যে সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে, সেই সব দেশ থেকে গিয়েছেন ২৪০ জন। তাঁদের মধ্যে ইউরোপের পর্যবেক্ষকেরাও রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ৫১ জন পর্যবেক্ষক গিয়েছেন বাংলাদেশে।
সব মিলিয়ে ২১টি দেশ থেকে পর্যবেক্ষকেরা গিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে- পাকিস্তান (৮), ভুটান (২), শ্রীলঙ্কা (১১), নেপাল (১), ইন্দোনেশিয়া (৩), ফিলিপাইনস (২), মালয়েশিয়া (৬), জর্ডান (২), তুরস্ক (১৩), ইরান (৩), জর্জিয়া (২), রাশিয়া (২), চিন (৩), জাপান (৪), দক্ষিণ কোরিয়া (২), কিরগিজস্তান (২), উজবেকিস্তান (২), দক্ষিণ আফ্রিকা (২) এবং নাইজেরিয়া (৪)। এই তালিকায় ভারত এবং আমেরিকার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনেকের মত, এই মুহূর্তে যে বাংলাদেশের যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সেখানে যেভাবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারত-বিরোধী প্রচার চলছে এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, তাতে নিরাপত্তাজনিত কারণটাই বেশি প্রকট হচ্ছে ভারত থেকে কোনও প্রতিনিধি না যাওয়ার নেপথ্যে। পাশাপাশি বর্তমান ইউনুস সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক একেবারেই মসৃণ নয়। সেটিও একটি বড় কারণ হলেও হতে পারে। আবার কারও কারও মত, নয়াদিল্লি মনে করছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগকে বাদ দিয়ে এই নির্বাচন কখনওই গণতান্ত্রিক নির্বাচন হতে পারে না। তাই কোনও প্রতিনিধি না পাঠিয়ে আদতে সেই বার্তাই দেওয়া হল বাংলাদেশকে।
প্রসঙ্গত, যে সব গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার পর্যবেক্ষকেরা গিয়েছেন বাংলাদেশে, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফরেল), কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)। এ ছাড়া ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অফ এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইসিএপিপি) এবং ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস থেকে কয়েকজন প্রতিনিধি গিয়েছেন।
