বাংলাদেশে ভোটের প্রচারে প্রাথমিক ভাবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই চলার বার্তা দিয়েছিলেন বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। সাম্প্রতিককালে ওপার বাংলায় যেভাবে ভারত-বিরোধী প্রচারের জিগির উঠেছে, তা নজরে রেখে তারেককেও 'আদর্শ বিকল্প' বলে ভেবেছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু ভোটের সপ্তাহখানেক আগে প্রকাশিত বিএনপি-র নির্বাচনী ইস্তেহারে যেভাবে ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়ানো হয়েছে, তাতে খানিক বিস্মিত এবং সতর্ক সাউথ ব্লক।
বিএনপি-র ইস্তেহারে লেখা হয়েছে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই চলতেই আগ্রহী। যা নয়াদিল্লির জন্য সদর্থক বার্তা বলেই মনে করছেন অনেকে। কিন্তু এরই পাশাপাশি সীমান্তে হত্যা এবং 'পুশ-ইন' নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। লেখা হয়েছে, "বাংলাদেশিদের উপর হামলা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের অন্যায্য ঘটনা রুখতে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশিই সীমান্তে হত্যা এবং পুশ-ইনের ঘটনা ঘটলেও চুপ থাকবে না বিএনপি।"
অনুপ্রদেশের কথা বলে বাংলাদেশি নাগরিকদের উপর সীমান্তে গুলি চালানো হয় বলে বিভিন্ন সময় ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে ঢাকা। পাশাপাশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাক করা নিয়েও তারা আপত্তি জানিয়েছে একাধিকবার। বিএনপি-র ইস্তেহারে সেই সব ঘটনারই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁদের মত, এতেই খানিক চিন্তিত ভারত। একদিকে সুসম্পর্ক রেখে চলার বার্তা, অন্য দিকে হুঁশিয়ারি মোটেই নয়াদিল্লির পক্ষে স্বস্তির হওয়ার কথা নয়।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত, বিএনপি-র এই বার্তার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই। কারণ, সামনেই ভোট। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যে ভারত-বিরোধিতার পরিবেশ রয়েছে, তা-ই মাথায় রাখতে হচ্ছে তারেককে। এই মুহূর্তে তিনি সরাসরি ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার ঘোষণা করলে ভোটবাক্সে তার প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে তাঁর গলায় জামাতের মতো ভারত-বিরোধিতার সুর শোনা গেলেও, তাতেও বিপদ! কারণ তাতে আওয়ামি লিগের ভোটব্যাঙ্ক তাঁর দলের ঝুলিতে যাবে না। তাই মধ্যপন্থা মেনেই নির্বাচনে এগোতে হচ্ছে তারেককে। আর এতে নয়াদিল্লিরও অস্বস্তিতে পড়ার কারণ নেই সেই অর্থে। কারণ, সাউথ ব্লকও বোঝে, ভোটের জয় পেতে এই নির্বাচনী রণকৌশল জরুরি।
