হামের কারণে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুমৃত্যু বাংলাদেশকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। যেন মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজধানী ঢাকা। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সরকারি তথ্যেই হাম ও উপসর্গে প্রাণ গিয়েছে ৪২৪ শিশুর। শুধু তাই নয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে ১১ জন শিশুর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের জেরে এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে বাকিরা। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে ১৫০৩ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গিয়েছে। যার জেরে সংক্রমণের শিকার ৪৯ হাজার ১৫৯ জন। উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ, রংপুর ও বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
ময়মনসিংহ, রংপুর ও বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
হামে শিশুমৃত্যুর জন্য নানা মহল থেকেই অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মহম্মদ ইউনুস ও তাঁর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমকে দায়ী করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে ৮ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণ করার পরই ইউনুস ইউনিসেফের থেকে টিকা কেনা বন্ধ করে ব্যক্তিভাবে টিকা কেনার ব্যবস্থা করেন। টিকা কেনার অব্যবস্থার কারণেই পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই টিকা কেনার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু ততদিনে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গিয়ে ব্যাপকভাবে শিশুমৃত্যু ঘটতে শুরু করে দিয়েছে। যে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সময়মতো টিকা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
