ক্ষমতা থেকে সরতেই ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ। বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন ১৭ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা। এবার ছাত্রদের নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুবাই, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়া-সহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুইস ব্যাঙ্কে অর্থ জমা রাখা ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে 'দুদক'।
রবিবার বিকেলে সেগুনবাগিচায় 'দুদক'-এর প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়ে জানান কমিশনের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ। তিনি জানান, অর্থ পাচারের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি টাকা এবং সারাদেশে ৩৬ জন ডিসি নিয়োগে দুই থেকে দশ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও এসেছে। তদন্তের আওতায় আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি তাঁর বাবা এবং প্রাক্তন উপদেষ্টার দুই সহকারী।
'দুদক' আধিকারিক তানজির আহমেদ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়ার বিরুদ্ধে। এছাড়া ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণ প্রকল্প দুর্নীতি, বিভিন্ন দপ্তরে বদলি-পদোন্নতি, বাণিজ্য এবং বিভিন্ন সরকারি কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ-সহ ক্ষমতার অপব্যবহারের আরও একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন। তদন্তের মাধ্যমে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে 'দুদকে'র তরফে জানানো হয়েছে।
যদিও যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আসিফ। রবিবার, রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। পালটা অভিযোগ করেন, সংস্থায় সংস্কার না হওয়ায় 'দুদক' এখনও সরকারের আদেশে কাজ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামি লিগের মিছিল সাধারণ জনগণের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে দাবি তার। তিনি অভিযোগ করেন, এই বিষয়ে বিএনপি জোরালো ভূমিকা নিচ্ছে না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছিল ছাত্রদল। যার পর দেশ ছাড়তে বাধ্য হন মুজিবকন্যা। ক্ষমতায় আসেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুস। দুর্নীতিমুক্ত দেশগঠনের বার্তা দিয়েছিলেন ইউনুস এবং তাঁর উপদেষ্টারা। স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশের আমজনতাও। যদিও দিন যত গড়াচ্ছে, তত দেখা যাচ্ছে দেড় বছর ক্ষমতায় থেকেই ভয়ংকর দুর্নীতি চালিয়েছে ইউনুস সরকার!
