shono
Advertisement
Chinmoy Krishna Das

অবশেষে জেলমুক্ত বাংলাদেশের হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভু, মায়ের মৃত্যুতে ৫ ঘণ্টা প্যারোলে ছাড়

বৃহস্পতিবার সকালে প্রয়াত হন চিন্ময় প্রভুর মা সন্ধ্যা রানি ধর।
Published By: Kishore GhoshPosted: 03:56 PM Sep 10, 2026Updated: 05:32 PM Sep 10, 2026

অবশেষে জেলমুক্তি সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী ওরফে চিন্ময় প্রভুর। তবে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার জন্য জেল থেকে বেরনোর ছাড়পত্র পেলেন তিনি। মায়ের মৃত্যুর কারণে চিন্ময় (Chinmoy Krishna Das) প্রভুকে ৫ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এই নির্দেশ দিয়েছে। এদিন সকালেই প্রয়াত হন চিন্ময় প্রভুর মা সন্ধ্যা রানি ধর। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

Advertisement

পারিবারিক সূত্র জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে গত মঙ্গলবার নিজেই আশ্রমে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সন্ধ্যা রানি ধর। চিন্ময় প্রভুও দীর্ঘদিন এই আশ্রমে থাকতেন। এর আগে অসুস্থ হওয়ার পর চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছিল। এরপরেও হাসপাতালে থাকতে চাইছিলেন না সন্ধ্যা রানি ধর। ছেলের আশ্রমেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।

২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে জেলে রয়েছেন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় প্রভু। ছেলে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সন্ধ্যা রানি। ছেলের অসুস্থতার খবর, বারবার জামিন না হওয়া এবং কারাগার থেকে মুক্তি না পাওয়ায় তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গুরুতর অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে দেখার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে শর্ত সাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি (প্যারোল) দেওয়ার আবেদন করেছিল তার পরিবার। চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধরের করা ওই আবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের জেলা শাসক মহম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ‘বিধান নেই’ জানিয়ে নাকচ করে দেন।

প্রসঙ্গত, জাতীয় পতাকা অবমাননায় অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলায় তাঁর জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় নিহত আইনজীবীর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারটি মামলা হয়।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারির ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছিল ভারত। হিন্দু-সহ সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয় দিল্লির তরফে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতা হারানোর পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকালে অশান্ত পদ্মাপাড়ে গ্রেপ্তার হন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র। যদিও এখন পরিস্থিতির বদল ঘটেছে। ভোটে জিতে সরকার গড়েছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জমানায় ধীরে ধীরে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জেলমুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement