বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-ঘনিষ্ঠ আরও সাতজনকে ফাঁসির সাজা। মঙ্গলবারই এই রায় শোনাল বাংলাদেশের বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ। গত নভেম্বরে এই ট্রাইব্যুনালেই হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল। এদিকে জানা যাচ্ছে, সাজাপ্রাপ্তদের সকলেই এই মুহূর্তে দেশছাড়া। তাঁদের কেউ ভারত, কেউ আমেরিকায় রয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন হাসিনার (Sheikh Hasina) দল আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, দলের যুব সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল। রয়েছেন ছাত্র সংগঠনের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। রায়ে কাদের, নাছিম, আরাফাত ও পরশের অর্ধেক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, বাজেয়াপ্ত করা এই সম্পদ জুলাইয়ের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। এখনও পর্যন্ত সাকুল্যে ২২ জনকে ফাঁসির সাজা শোনানো হয়েছে এই মামলায়।
গত নভেম্বরে এই ট্রাইব্যুনালেই হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল। এদিকে জানা যাচ্ছে, সাজাপ্রাপ্তদের সকলেই এই মুহূর্তে দেশছাড়া। তাঁদের কেউ ভারত, কেউ আমেরিকায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, দু’বছরেরও বেশি সময় ভারতের আশ্রয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত নভেম্বরে তাঁকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। সেই সময় আরও দু'জনকে একই সাজা শোনানো হয়েছিল। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, হাসিনা কি বাংলাদেশে ফিরবেন? তিনি নিজে গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে ভারচুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে দৃঢ়কণ্ঠে জানিয়েছেন, মৃত্যু পরোয়ানা নিয়েই তিনি ডিসেম্বর অর্থাৎ স্বাধীনতার মাসে দেশে ফিরবেন। এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আমি আমার নিজের দেশে ফিরতে চাই। আমি ফিরবই। ডিসেম্বরের মধ্যেই আমার ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা। কারণ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে দেওয়া যাবে না। আমার দেশে ফেরা ক্ষমতার জন্য নয়। এটি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়। আমি কি সারা জীবন বিদেশে পড়ে থাকতে পারি? আমাকে আমার দেশে, আমার আপনজনদের কাছে ফিরে যেতেই হবে।”
