shono
Advertisement
Bangladesh

বাউলদের উপর হামলায় তদন্তের নির্দেশ, 'হিন্দু বিদ্বেষ' বদনাম ঘোচাতে তৎপর তারেকের বাংলাদেশ

৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা হাই কোর্ট।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 07:46 PM Jul 05, 2026Updated: 07:46 PM Jul 05, 2026

ইউনুস জমানার 'হিন্দু বিদ্বেষী' বদনাম ঘোচাতে তৎপর তারেক রহমানের বাংলাদেশ। হিন্দু সন্ন্যাসী ও বাউল-ফকিরদের উপর হামলা, উপাসনাস্থল আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে এবার তদন্তের নির্দেশ দিল ঢাকা হাই কোর্ট। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সম্প্রতি ঢাকা হাই কোর্ট বাউল-ফকির ও সন্ন্যাসীদের নিয়ে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে কেন তা অবৈধ ঘোষণা করা হবে না? এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব, ধর্মসচিব, সংস্কৃতিসচিব, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার-সহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত ২১ জুন বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশিস রায়চৌধুরীর বেঞ্চ রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই নির্দেশ দেয়। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ, মহম্মদ জাহিদুল ইসলাম (জনি) এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ জাকির হোসাইন, মহম্মদ হুমায়ুন কবির সিদ্দিকী, মহম্মদ তানভীর প্রধান ও শারমিন হামিদ।

রিট আবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাউল, ফকির ও সুফিদের উপর ধারাবাহিকভাবে হামলা, আখড়া ও মাজারে ভাঙচুর, ধর্মচর্চায় বাধা এবং গান গাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো ঘটনা ঘটছে। শুধু তাই নয়, বহু বাউল ও ফকিরের চুল ও জটা জোরপূর্বক কেটে দিয়ে তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদায় আঘাত করা হয়েছে। উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এসব নির্যাতন চালিয়ে আসছে, অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ। তাতে এ ধরনের হামলা ও নিপীড়নের ঘটনা বেড়েই চলেছে।এমনকী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বাউল, সুফিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচার চলছে, যাতে আরও উসকানি দেওয়া হয়েছে। রিট আবেদনকারীদের মধ্যে অন্যতম নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন পারভীন হক, সুরেশ্বর দরবার শরিফের পীর হাসান শাহ সুরেশ্বরী দীপু নূরী, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ, সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়নরা।

রিটে দাবি করা হয়েছে, এসব ঘটনা এবং তা প্রতিরোধ বা প্রতিকারে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩৫ (৫), ৩৬, ৩৯ (১) ও ৪১ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। এসব অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ থেকে সুরক্ষা, চলাচলের স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং ধর্ম পালন, চর্চা ও প্রচারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই আবেদনের ভিত্তিতেই হাই কোর্ট ঘটনাগুলির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement