১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে এলেন, দেখলেন, জয় করলেন! প্রত্যাশিতভাবেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২৯৯ টি আসনের সংসদে জাদুসংখ্যা পেরিয়েছে খালেদা জিয়ার দল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে। আর বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন তারেক। সেইসঙ্গে খালেদা এবং হাসিনার মতো নারীদের প্রাধান্য সরিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুরসিতে বসছেন এক পুরুষ। আর সংসদে বিরোধী দলের আসনে জামাত-ই-ইসলামি। শুক্রবার ভোররাতে নির্বাচন কমিশন এই ফল ঘোষণা করেন।নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবারের ভোটে অংশ নিতে পারেনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বা বিএনপি। ২৯৯ টি আসনের সংসদে জাদুসংখ্যা পেরিয়ে সরকার গড়ছে খালেদা জিয়ার দল।
কয়েকটি আসনে বেসরকারি সূত্রের ফলাফল অনুযায়ী -
- তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়েছেন।
- নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামাত-ই-ইসলামির প্রার্থী খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান।
- বগুড়া-৬ আসনে ১১৬টি কেন্দ্রে তারেক রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৬৫১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামাত-ই-ইসলামির প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৮০ ভোট।
- বগুড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, সদরের এই আসনে মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ২৯ জন। ভোট পড়েছে ৭১.৩৪ শতাংশ।
- আসনটিতে তারেক রহমানের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৪ জন।
- এদিকে ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামাত আমির ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ডা. শফিকুর রহমান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শফিকুল ইসলাম খান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৮৩টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে জানা যাচ্ছে -
বিএনপি ২০০টি, জামাত ৬৪টি, এনসিপি ৫টি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি ও স্বতন্ত্রসহ অন্যরা ১১টি আসন পেয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় জামাত অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। সব আশঙ্কা, অনিশ্চয়তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ইতিহাসের নজিরবিহীন উৎসাহ-উদ্দীপনায় শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ইদকেও যেন হার মানিয়েছে এবারের নির্বাচনী উৎসব! গোটা বিশ্ব তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশের এ নির্বাচনের দিকে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এবার ভোট পড়েছে ৬০.৬৯ শতাংশ। পোস্টাল ব্যালটে ৮০.১১ শতাংশ ভোট পড়লেও বৈধ হয়েছে ৭০.২৫ শতাংশ ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭৭.৭ শতাংশ। দেশের কোথাও প্রাণঘাতী সংঘাত না ঘটিয়ে বিশ্বকে ‘আমরাও পারি’ দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ দেড় যুগ ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ মেটাতে রক্ত না ঝরিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের নতুন বার্তা দিয়ে এক অনন্য নজির তৈরি করেছেন দেশের সাধারণ ভোটার ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলি। বাংলাদেশের এমন অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ বিশ্ব কখনও দেখেনি।
নির্বাচনের আগে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে কিছু উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতিকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার প্রেরণা জোগাবে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে স্থগিত হওয়া নির্বাচনের তফসিল পরে ঘোষণা করা হবে।
