ফের এক রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণের দোরগোড়ায় পদ্মাপার। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রায় দেড় বছরের মাথায় স্থায়ী প্রশাসন পাবেন বাংলাদেশবাসী। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই ভেঙে যাবে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। কার্যত বেকার হয়ে পড়বেন অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ জন উপদেষ্টা! তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? ভোটের দিন তা নিয়ে মুখ খুললেন উপদেষ্টারা। কেউ কেউ পুরনো পেশায় ফিরতে চাইছেন, কেউ আবার আপাতত বিরতির কথা ভাবছেন।
২০২৪ সালে আগস্টে হাসিনা সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তৈরি হয়। তার অর্থ উপদেষ্টা হয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার তিনি দেশের প্রথম সারির সংবাদসংস্থা ‘প্রথম আলো’কে জানিয়েছেন, উপদেষ্টা পদ শেষের পর তিনি আবার ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরবেন, সেখানে শিক্ষকতার কাজে যোগ দেবেন। তবে তার আগে কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। শিক্ষকতায় ফিরতে চান ইউনুস সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও। ২০২৪ সালের আগস্টের আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন। পাশাপাশি মৌলিক বিষয়ে লেখালিখি এবং গবেষণা কাজেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর কথায়, “অপেক্ষায় আছি, কখন আমার সেই প্রিয় জীবনে ফিরে যাব।”
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হাসানও লেখার জগতে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। ‘প্রথম আলো’কে তিনি জানিয়েছেন, “আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম নেব। এরপর আগের মতো লেখালিখিতে ফিরতে চাই।” খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রকের উপদেষ্টা আলি ইমাম মজুমদার আগে সংবাদপত্রে প্রবন্ধ লিখতেন। তিনি আবারও সংবাদমাধ্যমের কাজে ফিরতে চান। এছাড়া ইউনুসের সংস্কৃতি উপদেষ্টা পদে রয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তাফা সরওয়ার ফারুকি। তিনি আবার নিজের মতো সিনেমা নির্মাণের কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। মাঝে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে সেই কাজে খানিকটা ছেদ পড়েছিল।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মহম্মদ ফাওজুল কবীর খান আবার একটু অন্যভাবে ভাবছেন। এখনই নিজের পেশা নিয়ে পরিকল্পনা না করলেও গাড়ি কেনা নিয়ে তিনি আগ্রহী। কারণ, উপদেষ্টা পদ ছাড়ার পর প্রশাসনের তরফে পাওয়া গাড়িটিও তাঁকে ছেড়ে দিতে হবে। তাই নতুন গাড়ির পরিকল্পনা। অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ জানিয়েছেন, আপাতত কিছুদিন একান্তে সময় কাটাতে চান তিনি। এরপর মানবাধিকার এবং জুলাই আন্দোলনে যুক্ত নারীদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা তাঁর।
