জামায়াতে ইসলামির (Jamaat-E-Islami) আমির অর্থাৎ প্রধান পদে কোনও মহিলার আসা সম্ভব নয়। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি নারী বিদ্বেষ প্রকাশ করে ফেললেন জামায়াতের বর্তমান আমির শফিকুর রহমান। তাঁর সাফ কথা, আল্লাহ ওদের ওভাবে সৃষ্টিই করেনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট (Bangladesh Election)। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ মহিলা হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনে কোনও মহিলা প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। আসলে ঐতিহাসিকভাবেই এই দলটি নারীবিদ্বেষী হিসাবে পরিচিত। ভোটের আগে ফের সেই মানসিকতারই পরিচয় দিলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলছেন, দলের প্রধান (আমির) পদে কোনো নারী কখনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এটা ঈশ্বরপ্রদত্ত সৃষ্টিগত পার্থক্যের কারণে সম্ভব নয়। তাঁর সাফ কথা, "ঈশ্বর ওদের অন্যভাবে তৈরি করেছে। যেমন সন্তানধারন পুরুষেরা করতে পারে না। সেটা শুধু নারীদের ক্ষমতা। একজন মা একই সময়ে সন্তান বহন করছেন, সন্তানকে দেখাশোনা করছেন, আর একই সময়ে পুরুষদের মতো সমান দায়িত্ব ও সমান সময় কাজ করছেন, এটা ন্যায়সংগত নয়।" শফিকুর রহমান বলছেন, অন্তত স্তন্যদানকালীন সময়ে, যখন তিনি সন্তান জন্ম দিচ্ছেন বা সন্তান লালন করছেন, তখন তাকে সম্মান দেখাতে হবে। শুধু ছয় মাসের জন্য। হ্যাঁ। আমরা মনে করি এটা যথেষ্ট নয়।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে লাখ লাখ মহিলা কাজ করেন, বিশেষ করে পোশাকশিল্পে। ৫০ শতাংশেরও বেশি কর্মী মহিলা। অথচ জামায়াতের আমির বলছেন, নারীদের শুধু মা হতে হবে এবং সন্তান দেখাশোনা করতে হবে। সেটা কি বিদ্বেষ নয়? শফিকুরের সাফাই, "আমি আমার বক্তব্যের পর কয়েকটি পোশাকশিল্প পরিদর্শন করেছি। আমি কোথাও এমন কিছু দেখিনি। বরং তারা স্বস্তি অনুভব করেছে।"
এবারের ভোটে একজনও মহিলাকে প্রার্থী করেনি জামাত। সেটা নিয়ে অবশ্য খানিকটা সুর নরম জামাতের আমিরের। তিনি বলছেন, "নির্বাচনে একজন নারীকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছি যেখানে আমাদের বোনেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা সংসদেও তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।"
