shono
Advertisement
Bangladesh

'সবচেয়ে খারাপ বিদ্যুৎ চুক্তি', আদানিকে বছরে বাড়তি ৬ হাজার কোটি দিতে হচ্ছে, দাবি ইউনুসের কমিটির

বাড়তি মূল্য দেওয়ার পাশাপাশি হাসিনার আমলে সাক্ষরিত এই চুক্তিতে দুর্নীতি হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে ইউনুস সরকার। এই নিয়ে আদানি গোষ্ঠীর জবাবদিহিও চাইতে পারে পর্যালোচনা কমিটি।
Published By: Kishore GhoshPosted: 07:21 PM Jan 26, 2026Updated: 07:23 PM Jan 26, 2026

আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ-দেনা মেটাতে নাজেহাল অবস্থা বাংলাদেশের। এই অবস্থায় ভারতীয় সংস্থাটির সঙ্গে চুক্তি নিয়ে বিষোদগার করে পালটা কৌশল নিল ঢাকা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত চুক্তি পর্যালোচনা জাতীয় কমিটির জানাল, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে করা চুক্তিগুলির মধ্যে আদানি চুক্তিই ‘নিকৃষ্টতম’। এর জন্য নাকি প্রতি বছরই পাঁচ থেকে ছ’হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ইউনুস সরকারকে।

Advertisement

শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমন বদলে গিয়েছে, তেমনই আওয়ামি লিগ আমলের একধিক বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল আদানি গোষ্ঠীর থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিটি। একদিকে যেমন ইউনুস সরকারকে বকেয়া দেনা শোধ করতে চাপ দিচ্ছে আদানি গোষ্ঠী। অন্যদিকে ঢাকার তরফে বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল নিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে। শুল্কে ছাড়ের দাবি জানানো হলেও এই বিষয়ে অসম্মতির কথা জানিয়ে দিয়েছে আদানি গোষ্ঠী।

এর মধ্যেই গত ২০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ উপদেষ্টার কাছে হাসিনা আমলের চুক্তিগুলির চূড়ান্ত পর্যালোচনা রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আদানির বিদ্যুৎ চুক্তি হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ চুক্তি। কেন? পর্যালোচনা জাতীয় কমিটির দাবি, ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনও কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতি হলে চুক্তি অনুযায়ী তার দায় নিতে হবে বাংলাদেশকে। ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের দাম যখন প্রতি ইউনিটে ৪ টাকার কাছাকাছি ছিল, তখন আদানির সঙ্গে ১৫ টাকায় চুক্তি করা হয়।

২০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত পর্যালোচনা রিপোর্ট জমা দিয়েছে কমিটি।

পর্যালোচনা কমিটি আরও জানিয়েছে, আদানিকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দাম দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর আদানি বাড়তি নিচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ কোটি ডলার (৫-৬ হাজার কোটি বাংলাদেশি টাকা)। এর ফলে ২৫ বছর চুক্তির মেয়াদে এক হাজার কোটি ডলার বাড়তি নিয়ে যাবে তারা। বাড়তি মূল্য দেওয়ার পাশাপাশি হাসিনার আমলে সাক্ষরিত এই চুক্তিতে দুর্নীতি হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে ইউনুস সরকার।

পর্যালোচনা কমিটির সদস্য মোশতাক হোসেন খান বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই যে সব তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা দিয়ে আদানি চুক্তি বাতিল করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে এটা করতে না পারলেও রাজনৈতিক ভাবে নির্বাচিত সরকার নিশ্চয়ই পারবে। আদানির বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাও করা যেতে পারে।’’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে শেখ হাসিনার আমলে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিদ্যুৎচুক্তি হয়েছিল। কিন্তু এই চুক্তি নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর পর গত সপ্তাহে বাংলাদেশের হাই কোর্ট তদন্তের নির্দেশ দেয়। এর জন্য আদালতের নির্দেশে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠিত হয়। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে কমিটির রিপোর্ট দেওয়ার কথা। পাশাপাশি ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারও আদানি-সহ ছটি সংস্থাও সঙ্গে হওয়া বিদ্যুৎচুক্তি খতিয়ে দেখছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement