বাবা কখনও থানায় ছুটছেন, কখনও তদন্তকারী সংস্থার দোরগোড়ায়, আবার কখনও আদালতে গিয়ে মেয়েকে খুঁজে দেওয়ার আর্তি। টানা সাত বছর ধরে চলছিল এই দৌড়-ঝাঁপ। দীর্ঘ এই সময়ে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি তদন্ত করলেও কোনও সুরাহা হয়নি। অবশেষে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। তারপর দীর্ঘ ৭ বছর পর ফাঁস হল রহস্য। জানা গেল, নিজের মেয়েক নিজেই শেষ করেছিলেন বাবা। কারণ, তরুণী পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু তা তিনি মেনে নিতে পারেননি। ঘটনাটি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানা এলাকার।
তদন্তকারীদের সূত্রের খবর, লিখিত অভিযোগে মেয়েটির স্বামী একটি ফোন নম্বরের উল্লেখ করেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে তরুণীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। পরে দেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। জামাইকে ফাঁসাতে একজন 'সুপারি কিলার'কে ভাড়াও করেন তরুণীর বাবা।
মৃতার নাম পারুল আক্তার। তাঁর বাবার নাম মহম্মদ কুদ্দুছ মিয়া। তাঁদের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ঘড়িয়া পশ্চিমপাড়ায়। ২০১২ সালের ২৮ মে বাড়ি থেকে পালিয়ে পারুল এক যুবককে বিয়ে করেন। ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় তাঁরা বসবাস করতেন। দু'জনেই একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। এরপর ২০১৫ সালের ২২ জুলাই পারুলকে কৌশলে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির কলন্দপুর এলাকায় নিয়ে যান কুদ্দুছ। তারপর তিনি পারুলকে খুন করে দেহ নদীতে ভাসিয়ে দেন।
জানা গিয়েছে, পিবিআই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে। তখনই কুদ্দুছকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জেরার মুখে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে নেন বলে খবর।
