মহম্মদ ইউনুসের অন্তরবর্তী সরকারের শাসনকালের একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি রয়েছেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ব্রহ্মচারী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস (Chinmoy Krishna Das)। তারেক রহমানের জমানায় একটি মামলায় জামিন পেলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ শাখাওয়াত হোসেন নির্দেশে জামিন পেলেন হিন্দু সন্ন্যাসী। যদিও আরও ছয়টি মামলায় বিচারাধীন থাকায় এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।
চিন্ময়ের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, যে মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জামিন দেওয়া হয়েছে, সেটি দায়ের করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী মীর মহম্মদ নাসির উদ্দিন, যিনি পার্বত্য অঞ্চল ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মহম্মদ হেলাল উদ্দিনের বাবা। ওই মামলায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী জেলার মেখাল এলাকায় জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছিল হিন্দু সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালে চিন্ময় কৃষ্ণ ছাড়াও আরও ৫ জনের বিরুদ্ধে একই মামলা দায়ের হয়েছিল।
উল্লেখ্য, পুণ্ডরীক ধামের তৎকালীন অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে গড়ে ওঠা সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র হন। তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম-সহ বিভিন্ন স্থানে এসব দাবিতে সমাবেশ হয়। ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী-সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন। এর পরই হিন্দু সন্ন্যাসীকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামে আনা হয়।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ঘটে। ওই ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যার মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পুলিশ, আইনজীবী ও মামলাকারীদের উপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা হয়। হত্যা মামলায় পুলিশ ইতিমধ্যে আদালতে এক দফায় চার্জশিট জমা দিয়েছে। বর্তমানে ওই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব চলছে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে এমন ছয়টি মামলা থাকায় এখনই জেলমুক্ত হবেন না তিনি।
