বাংলা বর্ষপঞ্জির ১৪৩৩ সালের গণনা শুরু হল আজ বুধবার। বাংলাদেশের (Bangladesh) ক্ষেত্রে তা একদিন আগে। মঙ্গলবার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা ১৪৩৩’ সফলভাবে শেষ হয়। এদিন সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় ১০টা নাগাদ চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে শেষ হয়। ঐতিহ্য মেনে ছায়ানটের গানেই নতুন বছরের অনুষ্ঠান শুরু হয় ঢাকায়।
ইউনুসের আমলে কট্টোরপন্থীদের চাপে প্রথমবার নাম বদল হয় 'মঙ্গলযাত্রা'র। নতুন নামকরণ হয় 'আনন্দ শোভাযাত্রা'। ইতিমদ্যে পদ্মাপাড়ে পরিস্থিতি বদলেছে। নির্বাচন জিতে সরকার গঠন করেছেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। পয়লা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম বিতর্ক নিয়ে সম্প্রতি বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছিলেন, “আমাদের কোনও এলার্জি নেই যে ‘মঙ্গল’ দিলে আমাদের ক্ষতি হবে বা ‘আনন্দ’ দিলে আমাদের লাভ হবে।” মন্ত্রী বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে আনন্দ শোভাযাত্রা করার ‘প্রয়োজন ছিল না’। যদিও 'ধরি মাছ, না ছুঁই পানী' নীতি নিয়ে 'মঙ্গল', 'আনন্দ' দুই শব্দ এড়িয়ে 'বৈশাখী শোভযাত্রা' হল ঢাকায়।
ইউনুসের আমলে কট্টোরপন্থীদের চাপে প্রথমবার নাম বদল হয় 'মঙ্গলযাত্রা'র। নতুন নামকরণ হয় 'আনন্দ শোভাযাত্রা'। ইতিমদ্যে পদ্মাপাড়ে পরিস্থিতি বদলেছে। নির্বাচন জিতে সরকার গঠন করেছেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান।
যদিও ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণির ঊর্ধ্বে সমাজের সামগ্রিক উপস্থিতি দেখা গেল তারেক জমানার প্রথম বর্ষবরণে। মোটের উপর অসাম্প্রদায়িক উৎসবে রাজধানী-সহ সারা দেশেই ছিল বিপুল প্রাণচাঞ্চল্যে। প্রতিবারের রঙিন শোভাযাত্রায় ছিল স্ক্রল পেন্টিং, বর্ণিল মোটিফ। ঢাকের তালে কোমর দোলাল আপামর বাঙালি। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল নানা প্রতীকী উপকরণ এবং শিল্পকর্ম। এবারের থিম ছিল ‘নববর্ষের সুরে ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ।’ শোভাযাত্রায় বিভিন্ন মোটিফ ও পটচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। মোরগ, হাতি, পায়রা, টেপা পুতুল-ঘোড়া ও দোতারা প্রতিটি মোটিফ বহন করে আলাদা প্রতীকী তাৎপর্য।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পরে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী ঢাকার ধানমণ্ডিতে ছায়ানট ভবন তছনছ করে আগুন লাগিয়েছিল। নির্বিচারে ভাঙা হয়েছিল হারমোনিয়াম-তবলা। কিন্তু পরের দিনই রাস্তায় টেবিল পেতে গান গেয়েছিলেন সংস্থার শিল্পীরা। তারেকের আমলে সেই ছায়ানটের গানেই শুরু হল বাঙালির উৎসব।
দেশবাসীকে পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তাঁর বার্তায় ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘পয়লা বৈশাখ আমাদের সবার জন্য হয়ে উঠুক এক আনন্দ ও মিলনের দিন।’ তারেক রহমানের বার্তা--- ‘বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
