লক্ষ্য ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন স্বার্থ ও সুফল। দিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। কূটনৈতিক মহল সূত্রে খবর, বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের ভারত সফরের পরপরই এদেশে আসার কথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। আর সেই জল্পনাই আরও জোরাল হল বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বৈঠক ঘিরে। যদিও খলিলুর রহমান বা তারেক রহমানের দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক সফরের তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে দু'দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এবং আমন্ত্রণ বিনিময়ের প্রেক্ষাপটে এই সফর স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে ভুটান সফরে যাবেন। এরপর তিনি ভারত সফর করবেন। তাঁর সম্ভাব্য ভারত সফরে গুরুত্ব পেতে পারে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সমন্বয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জল বণ্টন-সহ দীর্ঘমেয়াদি ইস্যু।
ঢাকার খবর অনুযায়ী, আজ শুক্রবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকে গিয়ে মন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। পরে এস জয়শঙ্কর ও এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ নিজেদের এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানান। জয়শংকর নিজের এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ছিল আমাদের আলোচনার প্রতিপাদ্য।’ বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘এস জয়শংকরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছি। অভিন্ন স্বার্থ ও অভিন্ন সুফলের লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে একত্রে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ যে প্রস্তুত আছে, সেটা নিশ্চিত করেছি।’
উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাস থেকে দিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে রিয়াজ হামিদুল্লাহ দায়িত্ব পালন করছেন। ভারতে কাজ শুরুর পর বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবার দেশটির মন্ত্রী পর্যায়ে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেন। অবশ্য গত বছরের আগস্টে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিসরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাতের বিষয়টি বাংলাদেশের একটি সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফরের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিনন্দন জানান সে দেশের নবহনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। একইসঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও পাঠানো হয়। এই আমন্ত্রণটি ঢাকায় সফররত ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। চিঠিতে মোদি দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার উপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে ভুটান সফরে যাবেন। এরপর তিনি ভারত সফর করবেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিশেষ দূত পাঠিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ে যোগাযোগ স্থাপনের কথাও উঠে এসেছে। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে সেগুলো হলো, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সমন্বয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জল বণ্টনসহ দীর্ঘমেয়াদি ইস্যু। বিশেষ করে তিস্তার জল বণ্টন-সহ অমীমাংসিত ইস্যুগুলো আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
