নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা: বাংলাদেশে জামাতে ইসলামির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে ভারতীয় কূটনীতিকদের। সেই খবর নিশ্চিত করেছেন জামাতের আমির শফিকুর রহমান। রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছরের শুরুর দিকে ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেন শফিকুর। বুধবার নিজের বাসভবনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শফিকুর ওই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শফিকুর বলেন, 'অন্যান্য দেশের কূটনীতিকেরা যেমন প্রকাশ্যে আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, ভারতীয় কূটনীতিক তেমন করেননি। ভারতীয় ওই কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখতে বলেছিলেন।' তিনি প্রশ্ন করেন, 'কেন? অনেক কূটনীতিক আমার কাছে এসেছিলেন এবং তা সবাইকে জানানো হয়েছিল। সমস্যা কোথায়?' তিনি আরও বলেন, 'আমাদের সবার কাছে উন্মুক্ত হতে হবে। আমাদের সম্পর্কের উন্নতি ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই।' যদিও, এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য দেয়নি, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
শফিকুর রহমান, পাকিস্তানের সঙ্গে জামাতের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে বলেন, 'আমরা সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখি। আমরা কোনও একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়ে আগ্রহী নই।' তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনার ভারতে থাকা উদ্বেগের বিষয়। এরপরেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ১৭ বছর পর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলা জামাত কার্যক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পরেই দ্বিতীয় স্থানে থাকবে। আরও দাবি, দুই দলের মধ্যে ব্যবধান হবে খুবই কম। এর আগে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে বিএনপির জোটসঙ্গী ছিল জামাত।
জাতীয় নাগারিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট করার কয়েক দিন পরেই রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোট সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা অন্তত পাঁচ বছর দেশকে স্থিতিশীল দেখতে চাই। দলগুলো যদি এক জায়গায় আসে, তাহলে আমরা একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করব।' তিনি আরও বলেন, জোট সরকারের ক্ষেত্রে দলগুলির দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান হবে অভিন্ন এজেন্ডা। তাঁর দাবি, যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, সেই দল থেকে প্রধানমন্ত্রী হবে। যদি জামাত সবচেয়ে বেশি আসন পায়, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে দল এমনটাই বলেন তিনি।
