পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশের জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। শুভেচ্ছাবার্তায় জিএম কাদের আশা করেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, সংস্কৃতি-সহ পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সোমবার ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারীকে এই শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান জাপা চেয়ারম্যান। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি পাঠিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি শৌর্য দীপ্ত সূর্য।
শুভেচ্ছাবার্তায় জি এম কাদের বলেছেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারীর ঐতিহাসিক নির্বাচনী বিজয় ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই সাফল্য শুধু বিজেপির জন্য নয়, পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।'' দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন বলে শুভেচ্ছা বার্তায় উল্লেখ করেন জাপা চেয়ারম্যান। তাঁর মন্তব্য, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী এমন একটি রাজনৈতিক ও জনসেবামূলক ঐতিহ্যের ধারক, যা খুব কম রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে দেখা যায়।'' শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারীরও প্রশংসা করেছেন তিনি। সাংসদ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষের জন্য জীবনব্যাপী কাজ করেছেন শিশির অধিকারী, তা উল্লেখ করেন জি এম কাদের। কাঁথি পৌরসভা থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত বিস্তৃত পারিবারিক জনসেবার ঐতিহ্য শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়েই ঘোষণা করেছেন, অরক্ষিত সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দিতে আগাম ৪৫ দিনের মধ্যে জমি দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ‘‘কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন ডর দেখানোর মতো কোনও জায়গা নাই।বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না। যেখানে আমাদের কথা বলা দরকার, আমরা কথা বলব।" তিনি আরও বলেন, ‘‘সীমান্তে ভারতেরও দেখাতে হবে মানবিক অ্যাপ্রোচ, ডিলিং উইথ সিকিউরিটি। এখানে যদি গুলি মেরে মানুষ হত্যা করা হয় বা তারে ঝুলাইয়া ফেলে রাখবেন, যেগুলো আমরা দেখছি হাসিনার সময়, ওই নমুনায় বর্ডার আর কোনওদিন আসবে না।''
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য, ‘‘সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব বিষয়।'' তবে সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বক্ষণ সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি। কোনও রাজ্য নয়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে বাংলাদেশের, এই মন্তব্যও করেছেন
তিনি।
