অশান্তির আশঙ্কা ছিলই। তা সত্যি করেই বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় সংসদ অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিরোধী দল জামাত-ই-ইসলামির বিক্ষোভের জেরে। বৃহস্পতিবার অধিবেশনের প্রথম দিনই রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাঝে প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে, স্লোগান তুলে অধিবেশন বয়কট করে বেরিয়ে যান জামাত বিধায়করা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, 'জুলাই সনদ নিয়ে গদ্দারি চলবে না।' কোনও প্ল্যাকার্ডে লেখা - 'জুলাই সনদ নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ হোক।' এমন হইহট্টগোলের মাঝে আসরে নামেন নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এদিন সকালেই তিনি স্পিকার পদে শপথ নিয়েছেন। তিনিই সকলকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্পিকারের কথায় কর্ণপাত না করে জামাতের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যান।
বৃহস্পতিবার অধিবেশনের প্রথম দিনই রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাঝে প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে, স্লোগান তুলে অধিবেশন বয়কট করে বেরিয়ে যান জামাত বিধায়করা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, 'জুলাই সনদ নিয়ে গদ্দারি চলবে না।' কোনও প্ল্যাকার্ডে লেখা - 'জুলাই সনদ নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ হোক।'
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে খালেদা জিয়ার বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদাপুত্র তারেক রহমান। তার চেয়ে বড় খবর, এই প্রথম সংসদে এসেছে কট্টরপন্থী ইসলামিক দল জামাত-ই-ইসলামি। তাতেই আশঙ্কা তৈরি হয় যে জামাত বিরোধী দলে বসে পদে পদে সরকারের বিরোধিতা করে কাজে বাধা দেবে। সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। প্রথম দিনই জুলাই সনদ কার্যকরের দাবিতে হইহট্টগোল শুরু করেন জামাতের সংসদ সদস্যরা। রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের ভাষণ নিয়ে আগে থেকেই তাঁদের আপত্তি ছিল। বৃহস্পতিবার তিনি সংসদে বক্তব্য রাখার সময়েই তাঁরা শোরগোল শুরু করেন।
তাঁদের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা - ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, কোনওটায় লেখা - ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান। কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। জামাতের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কটের ডাক দিয়ে ওয়াকআউট করেন। এদিন সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন দর্শক হয়ে এসেছিলেন অতীতের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডাঃ জুবেইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা। অধিবেশনের প্রথমার্ধ্বে তাঁরা হাজির থেকে সংসদের কার্যক্রম দেখেন।
