ভয়ানক ত্রুটি নিয়ে উড়েছিল বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেল। আর তাতে চড়েই গত ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশে ফেরেন। সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সামনে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৫ দিনের ব্যবধানে কমপক্ষে তিনবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যায়। তা সত্ত্বেও সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপপ্রধান প্রকৌশলী মহম্মদ মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাঁরা এই প্রতিবেদনটি জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৫ দিনের ব্যবধানে কমপক্ষে তিনবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যায়। তা সত্ত্বেও সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তথ্য বলছে, গত বছরের ৯ এবং ১৭ ডিসেম্বর বিমানটি শেষবার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। মাঝে ১০ ডিসেম্বরও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল। মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়েছে বারবার। তা সত্ত্বেও ওইদিন মাত্র আড়াই ঘণ্টা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। যা নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেকটাই কম।
২৫ ডিসেম্বর প্রত্যাবর্তনের দিন বিমানে সপরিবারে তারেক রহমান। ফাইল ছবি
রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের চরম অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ২৬ কোটির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই আর্থিক ক্ষতির দায় হিসাবে প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকেই আঙুল উঠছে।
আবার জানা গিয়েছে, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি ২০২ বিমানটির ভিএফএসজি খারাপ থাকা সত্ত্বেও মাঝআকাশে উড়েছিল। বলে রাখা ভালো, ভিএফএসজি খারাপ থাকার ফলে গিয়ারবক্সের ক্ষতি হতে পারে। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকতে পারে বিমানটি। আরও জানা গিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের চরম অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ২৬ কোটির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই আর্থিক ক্ষতির দায় হিসাবে প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকেই আঙুল উঠছে। বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মহম্মদ সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বিমানের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কোনও মন্তব্য দেয়নি।
