shono
Advertisement
Bangladesh

ইসলামের চোখে গানবাজনা 'হারাম', বাংলাদেশে তারেক জমানাতেও ধর্মান্ধদের বাড়বাড়ন্ত!

একেবারে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি মসজিদের কমিটি গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
Published By: Kousik SinhaPosted: 08:11 PM Mar 07, 2026Updated: 08:59 PM Mar 07, 2026

১৮ মাসের দীর্ঘ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসন শেষে বাংলাদেশের মানুষের রায়ে সরকার গঠন করেছেন তারেক রহমান। বসেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে। তারেকের এই শাসনকালে ধর্মান্ধদের বাড়বাড়ন্ত থাকবে না, অন্তত এমনটাই আশা করেছিলেন সে দেশের মানুষ। কিন্তু তারেক জমানাতেও একই ছবি! সে দেশের এক মসজিদ গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানোর নামে জারি করেছে ফতোয়া। 'সমাজ সংস্কারের' নামে নাকি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে! যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। কিন্তু এরপরেও তা প্রত্যাহারের কোনও উদ্যোগ নেই। আর তাতে বিতর্ক আরও বেড়েছে।

Advertisement

একেবারে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি মসজিদের কমিটি গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, কোনও বিয়ের অনুষ্ঠানে গানবাজনা করলে সেখানে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে দিতে স্থানীয় আলেমরা যাবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে মহম্মদ ইউনুসের অন্তবর্তীকালীন সরকারের শাসনকালে এই বিষয়ে মসজিদ কমিটি এলাকায় এই সংক্রান্ত নোটিস জারি করে। ‘গানবাজনা বা বাদ্যযন্ত্রমুক্ত সমাজ গঠনের সিদ্ধান্ত’ শিরোনামে ওই গ্রামে একটি নোটিস প্রচার করা হয়। তাতে লেখা আছে, ‘এতদ্বারা পোড়াগ্রামবাসীর পক্ষ হতে জানানো যাচ্ছে যে, আমরা আমাদের গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার জন্য গ্রামের গণসম্মতির ভিত্তিতে শিরক, বিদ’আত, গান–বাজনা ও অপসংস্কৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও ক্ষতিকর হওয়ায় গ্রামের সামাজিক কল্যাণের স্বার্থে আজ থেকে আমাদের গ্রামে প্রকাশ্যে উচ্চশব্দে বাদ্যযন্ত্র বা গান–বাজনা সম্পূর্ণরূপে হারাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। এর পরেও যারা বাদ্যযন্ত্র বাজাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একেবারে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি মসজিদের কমিটি গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, কোনও বিয়ের অনুষ্ঠানে গানবাজনা করলে সেখানে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে দিতে স্থানীয় আলেমরা যাবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে মহম্মদ ইউনুসের অন্তবর্তীকালীন সরকারের শাসনকালে এই বিষয়ে মসজিদ কমিটি এলাকায় এই সংক্রান্ত নোটিস জারি করে।

নোটিসে মসজিদ কমিটির সদস্য ও গ্রামবাসীর পক্ষে ৩৪ জন স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি গ্রামের মোড়ে এই বিষয়ে কিছু ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়। এহেন নোটিস জারির পর থেকে গ্রামে গানবাজনা বন্ধ আছে। যদিও বিষয়টি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। বাজেয়াপ্ত করা হয় ব্যানার, ফেস্টুন। এমনকী মসজিদ কমিটির সদস্যদেরও ডেকে পাঠানো হয়। এমনকী এহেন 'ফতোয়া' জারি যে ঠিক হয়নি, তা জানিয়ে প্রশাসনের সামনে ভুল স্বীকারও করেন বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক। কিন্তু এখনও এলাকায় এহেন নির্দেশিকা রয়েছে বলেই খবর। এমনকী কোনও নোটিস প্রত্যাহার করা হয়নি বলেও খবর।

আর এতে চরম ক্ষুব্ধ সেখানকার তরুণরা। এমনকী ক্ষুব্ধ স্থানীয় মহিলারাও। স্থানীয় এক যুবক বলেন, ''মসজিদ কমিটির লোকজন এ–ও প্রচার করে যে, যারা নামাজ পড়বে না, তাদের জানাজা পড়ানো হবে না। কিন্তু এটা অনেকেই মানে না।'' ওই যুবকের কথায়, নামাজ পড়া না–পড়া ব্যক্তিগত পাপ–পুণ্যের বিষয়। এ জন্য জানাজা পড়ানো হবে না, এটা বলা ঠিক নয়। রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, ''বিয়ে মানে, আমোদ–ফুর্তির বিষয়। গানবাজনা বা গীত গাওয়া স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। এটা তাঁরা বন্ধ করতে পারবেন না। আর গ্রামের মৌলভিরা না এলে বিয়ে পড়ানো বন্ধও থাকবে না। এ জন্য অনেক মৌলবিকে পাওয়া যাবে।''

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement