বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে উদ্ধার ৪৭টি মাথার খুলি ও মানব কঙ্কাল! ঘটনার তদন্তে নেমে অনলাইন কঙ্কাল পাচার চক্রের হদিশ পেল পুলিশ। চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ- ডিএমপি। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানিয়েছে তারা দেশজুড়ে কাজ চালাচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে।"
প্রথমে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার ৯ নম্বর সেক্টরে সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের হস্টেলের একটি ঘর থেকে ৪৪টি মাথার খুলি ও মানবদেহের একাধিক হাড় উদ্ধার করে। সেই সময় চক্রের মূল মহম্মদ ফয়সালকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল জানায়, তাদের একটি অনলাইন গ্রুপ আছে। এটির নাম 'বোন সেলিং' (হাড় বিক্রি)। সেখানে তাদের ৭০০ জন কাজ করে। গ্রুপটিতে ২০ হাজার সদস্য রয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা কেউ ৫০টি, কেউ ২০টি কঙ্কাল বিক্রি করেছে। এই চক্রে রয়েছে এমন কিছু সদস্য যারা কবর থেকে লাশগুলো তোলে। এরা মূলত গাজিপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর অঞ্চল থেকে এসব কঙ্কাল নিয়ে আসত বলেই খবর।
জানা যায়, তারা ৬-৮ হাজার টাকায় কঙ্কালগুলো কিনত। পরে সেগুলো ১৫-২০ হাজার টাকায় বিক্রি করত। যারা কঙ্কাল বিক্রির সঙ্গে জড়িত তারা কলেজের শিক্ষার্থী। যখন কেউ অনলাইনে কঙ্কাল কেনার জন্য বুকিং করত তখন তাদের কাছে ১-২ সপ্তাহ সময় চেয়ে নেওয়া হত। পুলিশ সূত্রে খবর, লাশ কবর দেওয়ার এক বছর পর সেটি তুলে নিয়ে আসা হত। এ ক্ষেত্রে অরক্ষিত কবরগুলোতেই এই কাজগুলো করা হত। যেসব কবরে সিসি ক্যামেরা নেই, পর্যাপ্ত আলো নাই, নিরাপত্তা নেই সেসব কবরগুলো ছিল টার্গেট। তোলার পর কেমিক্যাল ব্যবহার করে সেগুলো বিক্রি করা হত শিক্ষার্থীদের কাছে।
