বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণির সঙ্গে রাতযাপন! অভিযোগ প্রমাণিত হতেই বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক মহম্মদ গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে। অভিযুক্ত ওই পুলিশকর্তা ঢাকা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রাক্তন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ছিলেন। বর্তমানে যদিও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে কাজ সামলাচ্ছিলেন। কিন্তু অভিযোগ উঠতেই মহম্মদ গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরেই বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসাবে ওই পুলিশকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত।
একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ওই পুলিশকর্তার বাড়িতে অভিনেত্রীর অবাধ যাতায়াত রয়েছে। সেই ছবি প্রকাশ্যে চলে আসে। আর তা প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভার থানার ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ জানান পরীমণি (Pori Moni)। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই বছরের ১৪ জুন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন অভিনেত্রী। সেই মামলার তদন্তকারী আধিকারিক ছিলেন মহম্মদ গোলাম সাকলায়েন। এরপরেই একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ওই পুলিশকর্তার বাড়িতে অভিনেত্রীর অবাধ যাতায়াত রয়েছে। সেই ছবি প্রকাশ্যে চলে আসে। আর তা প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে। বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই রাতারাতি গোলাম সাকলায়েনকে ডিবি থেকে বদলি করা হয়। এহেন অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায় ওই কমিটি। এরপরেই ওই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আবেদন জানানো হয়। যেখানে বাধ্যতামূলক অবসরে তাঁকে যাতে পাঠানো হয় সেই আবেদনও জানানো হয়।
বাংলাদেশের পিএসসিতে পাঠানো শৃঙ্খলা শাখার এক বার্তায় বলা হয়, ডিবি গুলশান বিভাগের এডিসি থাকাকালীন ওই পুলিশকর্তা নায়িকা পরীমণির সঙ্গে ঘটনাক্রমে দেখা এবং যোগাযোগ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় তিনিও নায়িকা পরীমণির বাড়িতেও নিয়মিত রাত্রিযাপন করতেন। এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে পুলিশকর্তার মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করা হয়। তাতেও এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয় ওই বার্তায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাকলায়েন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল আধিকারিক হয়ে সরকারি দায়িত্বের বাইরে নায়িকা পরীমণির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। যা অপরাধ হিসাবে দেখা হচ্ছে। এরপরেই বাধ্যতামূলক অবসরে যাচ্ছেন ওই পুলিশকর্তা।
